তুলাতলীর মাদক কারবারী ‘ইয়াবা ফাহিম’ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

43

মাদক ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম ফাহিম প্রকাশ ‘ইয়াবা ফাহিম’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৮ মে রাতে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ২৫ বছর বয়সী এই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে খুলশী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল। দীর্ঘদিন ধরে সে খুলশী থানাধীন তুলাতলী এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনাকারী ও মাদক ব্যবসায়ী মুরিদুল আলম লিটনের ছত্রচ্ছায়ায় ফাহিম নানান অপরাধে যুক্ত ছিলেন। মুরিদুল আলম লিটন নগরের ৪২নং ওয়ার্ড যুবলীগের কোনো কমিটিতে না থাকলেও তিনি ৪২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ব্যবহার করে অবাধে এসব ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইয়াবার সুপরিচিত ব্যবসায়ী হিসেবে ফাহিমকে সবাই ‘ইয়াবা ফাহিম’ বলেই সম্বোধন করে। লিটনের নেতৃত্বে ফাহিম ও তার বাহিনীর নানান অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কারণে এলাকাবাসী সমসময় আতঙ্কে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তুলাতলী এলাকায় ইয়াবার বিস্তার ঘটেছে মূলত ইয়াবা আরাফাত ও লিটনের হাত ধরে। গত ১৮ মে রাতে পূর্ব নাসিরাবাদের তুলাতলীতে মাদক সেবনকালে এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়। ওই মাদক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ফাহিম প্রকাশ ইয়াবা ফাহিম ও তার মামা কথিত আওয়ামী লীগ নেতা মুরিদুল আলম লিটন এলাকায় যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে তুলাতলী বস্তিতে অসামাজিক কার্যকলাপসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। লিটনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তার বড় বোন অসামাজিক কর্মকান্ডের কথিত রানী ‘নার্গিস’ এর ২ ছেলে ইয়াছিন আরাফাত ও শহিদুল ইসলাম ফাহিম সরাসরি জড়িত।
২০০৮ সালের আগে জাতীয় নির্বাচনের পূূর্বে বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো মুরিদুল আলম লিটন। তখনও তিনি মাদক ও অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরে সরকার পরিবর্তন হলে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন। তারপর ৪২নং সাংগঠনিক ওয়ার্ডে নতুন করে যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে তুলাতলী বস্তিতে আবার তার মাদক ও দেহ ব্যবসা চালু করে।
এলাকাবাসী তাদের জনজীবনের নিরাপত্তা চায়। মাদকের থাবা থেকে এলাকাকে মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাসিরাবাদ সি ইউনিট আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদক জানান, লিটন, আরাফাত, ফাহিমসহ তাদের বাহিনীর কারণে এলাকার মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকেন। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। তরুণ সমাজ মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এলাকায় ইয়াবা ফাহিম ও ইয়াবা লিটন গ্রূপ এলাকাবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। তারা এই এলাকায় কথিত দলীয় পদ ব্যবহার করে অবাধে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে, নানান অপরাধের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। কিন্তু তারপরও তারা প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।