তিন সন্ত্রাসী গ্রুপে জিম্মি আমবাগান ঝাউতলা

এক বছরে ৬ খুন, ছিনতাই নিত্যঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

429

নগরীর খুলশী থানাধীন আমবাগান এলাকাটি সন্ত্রাসী-অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত খুন, ছিনতাই, হামলা. মাদক ব্যবসা সহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে সেখানে। গত এক বছরে ঘটেছে ৬টি খুনের ঘটনা। এলাকায় বসবাসকারীরা আতংকের মধ্যে দিন কাটছেন।
জানা যায়, রেল কর্মচারীসহ কয়েক হাজার লোকের বসবাস আমবাগান এলাকায়। তারা সন্ত্রাসী গ্রæপের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। সরকার বদল হলেও উক্ত এলাকায় সন্ত্রাস অপরাধ কমে না। তারা বহাল তবিয়তে থেকে অপরাধ কর্মকান্ড করে যায়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সেখানে একাধিক গ্রুপ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। এগুলো হচ্ছে রণি গ্রæপ, কামাল গ্রুপ, মিজান গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে ১২ থেকে ১৪ জন। এদের মধ্যে সাব্বির, মেজবাহ, রিয়াজ, জনি অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ২০টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। তবে রণি গ্রুপই সেখানে শক্তিশালী। সেখানে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না। আমবাগান এলাকায় খুন হন আশরাফ, ফরিদ, মামুনসহ ৬ জন। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক।
জানা যায়, এখানকার সন্ত্রাসীদের আয়ের প্রধান উৎস চাঁদাবাজী। সন্ত্রাসীরা এলাকাবাসী, ঠিকাদার, ব্যবসায়ীসহ সকলের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। চাঁদা না দিলে নেমে আসে হামলা নির্যাতন। তাদের হামলায় আহত হয়েছেন মো. শাহজাহান, সালেহা বেগম, জাহেদা পারভিনসহ অনেকে। সন্ত্রাসীরা তাদের ঘরে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় রণিকে প্রধান আসামি করে খুলশি থানায় মামলা হয়েছে। সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতেই খুন হন মো. আশরাফ নামে এক যুবক। আশরাফকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে খুন করে লাশ পুড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় রণিসহ সাত জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়। মামলা তুলে নিতে বার বার হুমকি দিচ্ছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ এখনো মামলাটির চার্জশিট দেয়নি। খুনিদের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত্র অবস্থায় রয়েছে আশরাফের পরিবার।
খুলশী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন জানান, আমবাগান এলাকাটি সন্ত্রাসমুক্ত করতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। কয়েকজন সন্ত্রাসীকে এরই মধ্যে ধরাও হয়েছে। অন্যরাও শিগগির ধরা পড়বে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ‘সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এলাকাটির। ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিদিনই হচ্ছে। আমরা কেউ মুখ খুলতে পারছি না। মুখ খুললেই মেরে ফেলবে।’
তিনি আরও জানান, আমবাগানে মাদক ব্যবসাও চলে। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, মদ সহ সকল ধরনের মাদকই মিলে এখানে। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো এসব মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।