রাঙামাটিতে সেমিনারে বক্তারা

তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভাগ করার প্রস্তাব

রাঙামাটি প্রতিনিধি

45

রাঙামাটিতে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদের আয়োজনে গত শুক্রবার শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে অনেক বক্তা দাবি তুলেছেন তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি নতুন বিভাগ করার। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন সেমিনারে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গরা। এই প্রস্তাবে আবার অনেকে তাৎক্ষণিক ভাবে সাড়াও দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে সেমিনারে অনেকে কথা বলেছেন। এখানে যুক্তি এসেছে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনটি জেলা রয়েছে এর সাথে আরো একটি নতুন জেলা ঘোষণা করলেই চারটি জেলা নিয়ে একটি বিভাগ করা সম্ভব। তবে সাজেক বিশাল ইউনিয়নকে একটি নতুন উপজেলা করে বাঘাইছড়িকে জেলা ঘোষণা দেয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে পড়েছে। শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের সকল কর্মকর্তা, রাজনীতি ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান প্রতিনিধি ও সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের লোকজন এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বরুন দত্ত বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় ১১লাখের অধিক পাহাড়ি বাঙালিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে। এসব লোকের কথা চিন্তা করে পার্বত্য মন্ত্রণালয় সরকারকে এই প্রস্তাবটি দিতে পারেন। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন উন্নতি যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হবে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, চুক্তির আলোকে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয় রাঙামাটিতে অবস্থিত। অপর দিকে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়। এছাড়াও রয়েছে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ। এসব কিছু মিলে সরকার চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি বিভাগ ঘোষণা করতে পারেন। তবে সরকার যদি ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে বিভাগ ঘোষণা করা কোন ব্যাপারই নয়। বর্তমান সরকার অনেক সাহসী ও উন্নয়নের সরকার। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এদেশে অনেক কিছুর উন্নয়ন করেছেন- যা স্বাধীনতার পর কেউ করাতো দূরের কথা বুঝেও উঠতে পারেনি।
অনেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে এ এলাকার হিংসা হানাহানি, গুম, হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ সকল সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভাগ হলে পাল্টে যাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে চেহারা। পরিবর্তন হবে পরিবেশ পরিস্থিতি। হবে শিল্প কারখানা। গড়ে উঠবে আধুনিক নতুন নতুন কলকারখানা। পাল্টে যাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্প বৈচিত্র। তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ জনগণ বলেন, বিভাগ হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সরকারি বে-সরকারি সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা আরো বেড়ে যাবে। দুর্নীতি অনিয়ম কমে আসবে। ক্ষমতা প্রয়োগে বিভাগের তদারকি জোরদার হবে বেগমান।
এদিকে তিন পার্বত্য জেলায় উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় স্থানীয় বিভাগগুলো প্রতিনিয়ত অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছে।