ভারতীয় সেনাপ্রধান

তালেবানের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া কাশ্মিরে প্রযোজ্য না

15

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেছেন, আফগানিস্তানে ভারতের স্বার্থ সুরক্ষায় তালেবানের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে জম্মু-কাশ্মিরের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে না। আলোচনা হলে তা হতে হবে আমাদের শর্ত মেনেই। তৃতীয় কোনও পক্ষ থাকতে পারবে না। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমস এখবর জানিয়েছে।
জম্মু-কাশ্মিরের সংকট সমাধানে ভারতের আলোচনা না করার নীতির সমালোচনা করে রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির সমালোচনার একদিন পর ভারতীয় সেনাপ্রধান এই মন্তব্য করলেন। বুধবার এক টুইটে ওমর আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, আমরা তালেবানের সঙ্গে আলোচনা, তিব্বত ও শ্রীলঙ্কায় তামিল এলাকার সায়ত্ত্বশাসন নিয়ে কথা বলতে পারি কিন্তু জম্মু-কাশ্মিরে আলোচনা বা রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে আগ্রহী না।
কাশ্মিরের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘সেনাপ্রধান যদি তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বলতে পারেন তাহরে আমাদের নিজেদের লোকেদের বেলায় অন্য অবস্থান কেন?’ পাকিস্তানের আহব্বানে সাড়া দিয়ে হুরিয়েত সম্মেলনে সহিংসতা বন্ধে আলোচনার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহব্বান জানান ভারত সরকারের প্রতি।
সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ভারতের যদি আফগানিস্তান নিয়ে আগ্রহ থাকে এবং অন্য দেশগুলো যদি তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করে তাহলে দিল্লিরও পিছিয়ে থাকা উচিত নয়। অন্যদের চাইতে পিছিয়ে পড়া উচিত হবে না। সেনাপ্রধান তালেবানের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও ভারতের সরকারি অবস্থান এখন পর্যন্ত এর বিপরীত মেরুতে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে তুরস্ক, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরান তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করে। আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় তালিবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের আলোচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ইতোপূর্বে রাশিয়ায় গিয়ে এক সম্মেলনে অংশ নেয় ভারত। মস্কো শহরের সেই সভায় আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনা নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে তালেবানও অংশ নিয়েছিল। কিন্তু এতে ভারতের যোগদান সরকারি পর্যায়ে ছিল না। সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আফগানিস্তানের মতো একই উদ্যোগ কি কাশ্মিরের ক্ষেত্রে সম্ভব? উত্তরে তিনি বলেন, তালেবানের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মিরের তুলনা হতে পারে না। এখানে আলোচনা হতে হবে আমাদের শর্ত মেনেই। কাশ্মিরে আলোচনায় কোনও তৃতীয় পক্ষ যুক্ত হতে পারে না।