তামাক চাষের জমিতে সরিষার বাম্পার ফলন

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

28

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ তামাক চাষের জমিতে এবার সরিষার চাষাবাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরিষায় ক্ষেতে ফুল ফুটেছে। কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিকে বলে জানান দিচ্ছে সরিষা চাষে বাম্পার ফলন হবে। উত্তর রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার শত শত কৃষক প্রায় অর্ধশতাধীক একর জমিতে সরিষা চাষ করেছে। বিশেষ করে তামাক ও ধানের জমিতে বিকল্প চাষাবাদ হিসেবে সরিষা চাষ করা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়ায় দিন দিন দিন সরিষা চাষে কৃষক আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা কাজী রমিজ উদ্দিন জানিয়েছেন। রাঙ্গুনিয়া পৌর সভার দাঙ্গার চরে এবার কৃষক লাভবান মনে করে সরিষা চাষ করেছে। বিস্তীর্ণ জমিতে তামাকের পরিবর্তে সরিষা চাষ হওয়ায় কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করে। তামাক চাষের কারণে জর্মির উর্বরতা নষ্ট করে। পারুয়া ইছামতি রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জহুরুল ইসলাম জানান, রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ার পর শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ হচ্ছে। বিশেষ করে পারুয়া হাজারী বিল, চৌধুরী বিল, সিকদার বিল, ছোট বিল, বড় বিল, সেবা খোলা বিল, উত্তর পারুয়া বিল, হোছনাবাদ ইউনিয়নের কালাজী তালুকদার বিল, কবুতর বিল, শাহ বিল, লালা নগর ইউনিয়নের ঝনোয়ার বিল, জইন্যা বিল, দক্ষিন রাজা নগর ইউনিয়নের ফুল বাগিছা বিল, দোয়ানী বিল, শিয়াল বুক্কা দরগাহ বিল,স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ঈদগাহ বিলে পানির অভাবে আগে কোনো চাষাবাদ হতোনা। এখন এসব পতিত জমিতে চলছে ব্যাপকভাবে সরিষা চাষ। তিনি জানান নিজের জমিতে ব্যাপক ভাবে সরিষা করছে। শখের বসে তিনি এবার ৩০ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছে। এতে তার খরচ হযেছে ৩ হাজার টাকা মতো। সরিষা কেটে তিনি বিক্রি করে প্রায় ১০ হাজার টাকা পাবেন বরে জানান। পারয়া ইউনিয়নের সরিষা চাষী আবদুল কাদের জানান, এ ইউনিয়নে ব্যাপক জমিতে শত শত কৃষক তামাক চাষ করে আসছে। এবার এসব তামাক চাষী তাদের জমিতে তামাকের পরিবর্তে সরিষা চাষ করছে। সরিষা চাষে কৃষকের তেমন পূজি লাগেনা। অল্প পূজি দিয়ে সরিষা চাষ করে অনেকে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছে। তামাক চাষের জমিতে আগামীতেও সরিষা চাষ হবে বলে তিনি জানান। স্বনির্ভর ইউনিয়নের ঈদগাহ বিলে এ মৌসুমে প্রায় ২০ জন কৃষক পরীক্ষামুলক সরিষা চাষ করেছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ দিয়ে এসব কৃষক সরিষা চাষ করেছে বলে জানান। কৃষক অনিল দাশ জানান, তার পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে তামাক ও ধান চাষাবাদ করে সুবিধা করতে পারেনি। এনজিও থেকে চড়া সুদে টাকা নিযে চাষাবাদ করে লোকসান গুনেছে। এবারে এসব ধানি জমিতে চাষ করা হয়েছে সরিষা চাষ । সরিষার ফলন দেখে তিনি ভালই লাভবান হবে বলে জানান। কম খরচে অধিক লাভবান সরিষা চাষ তাদের দেখাদেখিতে এলাকার অনেক কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহ দেখিয়েছে। সরফভাটা ইউনিয়নের পাইট্টাল্লীখুলের কুষক আবদুল চত্তার জানান, আগে পরিবেশ বিরোধী তামাক চাষ করতাম জমিতে।
তামাক চাষে জমির ব্যাপক উর্বরতা ক্ষতি হয়েছে। এবার তামাক চাষ না করে সরিষার চাষ করেছি। সরিষা চাষে তেমন টাকা লাগেনা। ফলন ভাল হওয়ায় আগামীতে ব্যাপকভাবে সরিষা চাষ করবেন বলে তিনি জানান। রাঙ্গুনিয়া কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, রাঙ্গুনিয়ায় এবার সরিষা চাষে বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা সরিষা চাষে এগিয়ে আসেেছ। সরিষা চাষ কম পুজিতে করা যায়। ঝুকিও তেমন নেই। আমরা কৃষকদের সরিষা চাষে নানা ভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছি। তামাক চাষের জমিতে এবার সরিষা চাষ হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, সরিষা চাষে বদলে দিতে পারে বেকার যুবকদের ভাগ্য। কম পুজিতে, তেমন বেশী পরিশ্রমও হয়না। সরিষা চাষ জনপ্রিয় করতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। তামাক চাষ জমির উর্বরর্তা নষ্ট করে। তামাক চাষের জায়গায় সরিষা চাষ করাতে কৃষকরে লাভবান হবে।