তাওবাকারীর গুণাহ আল্লাহ ক্ষমা করেন

আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়ব আলী

38

আল্লাহর অবারিত রহমতের মুবারক মাস মাহে রমজানের শেষ দশক নাজাত, অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ। মাহে রমজানুল মোবারকের রহমতে পরিপূর্ণ ও মাগফিরাতের সুসংবাদবাহী দিনগুলো আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছে। আল্লাহর নেক বান্দাদের মনে আল্লাহর পবিত্র মেহমানের বিদায়ক্ষণে হৃদয়ে দারুণ মর্মবেদনা অনুভব করছেন। এ পবিত্র মাসে আল্লাহপাক স্বীয় বান্দাদের পাপরাশি ক্ষমা করার সুসংবাদ দিয়েছেন।আল্লাহপাক স্বয়ং তাওবা করার জন্য আহŸান করেছেন, রোজাদারের প্রার্থনা কবুল করার ঘোষণা দিয়েছেন হাদিস শরীফে। তাই রোজাদার মু’মিন বান্দাদের উচিত এ মহিমান্বিত নাজাতের অবশিষ্ট দিনসমূহে নিজ গুনাহের কথা স্মরণ করে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি তাওবা এসতেগফার করা। তাওবা’ অর্থ পরিতাপের সাথে পাপ পরিহার করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। বান্দা যত বড় পাপী হোক না কেন, যখন বান্দা স্বীয় পাপের জন্য অনুশোচনা করে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করে নেন। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সকলেই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। রাসুল (সা.) বলেছেন, কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়ার নামই তাওবা। নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, আমি প্রত্যহ সত্তরবারের অধিক আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করে থাকি। সুবহানাল্লাহ্; উম্মতগণের সুপারিশকারী নবীজী আমাদের শিক্ষার জন্যই প্রতিদিন তাওবা এসতেগফার করতেন। অতএব আমাদেরকেও প্রতিনিয়ত আল্লাহর সমীপে তাওবা করতে হবে। রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, পাপ থেকে তাওবা কারী সে এমন হয়ে যায়, যেন তার কোন পাপই নেই।
তিনি এরশাদ করেছেন, আদম সন্তান সবাই পাপ করে থাকে, আর পাপীদের মধ্যে তারাই অধিক ভাল যারা বেশি তাওবা করে। অতএব আল্লাহর যে সব বান্দা কুরিপুর তাড়নায় বিভিন্ন পাপ করে ফেলেছে তারা যদি পাপমুক্ত হয়ে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পন করে পবিত্র জীবন কামনা করে তাদের উচিৎ হবে নিজ জীবনে কৃত পাপ কর্মের স্মরণ করে লজ্জিত হয়ে মহা ক্ষমাশীল, দয়ালু আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। ভবিষ্যতে এমন গুনাহ না করার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করলে অবশ্যই আল্লাহকে ক্ষমাশীল হিসেবে পাবে। পরম করুনাময় আল্লাহ চান তাঁর পথহারা বান্দাগণ সুপথে ফিরে আসুক। দিশা পাক সিরাতুল মুসতাকিমের।
আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসুলের মাধ্যমে ঘোষনা দেন! হে হাবীব আপনি বলে দিন, হে আমার বান্দারা যারা তোমাদের নফসের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়োনা। নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। বস্তুত তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। (আল কুরআন)
মাহে রমজান এর শেষ দশক অত্যন— গুরুত্বপূর্র্ণ। এ বাকী দিনগুলোতে রয়েছে পবিত্র কদর রাত । যে রাতে আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করার ঘোষনা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে পবিত্র রমজানের ক্ষমার মৌসুমে নিজেদের গুনাহ মাফ করানোর তৌফিক দিন। আমিন।