তরমুজের গুণে রোগমুক্তি

অর্জুন কুমার নাথ

32

তরমুজ গরমের আকর্ষণীয় একটি ফল। বৃহৎ আকৃতির রসালো এই ফলের প্রতি দুর্বলতা নেই এমন মানুষ খুবই কম। তরমুজ শুধু সুস্বাদু ফল হিসেবেই নয়, এই ফলের রয়েছে অসাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। পুষ্টিতেও রয়েছে এই ফলের বৃহৎ মাত্রা। তরমুজের ওজনের প্রায় শতকরা ৯২ ভাগই পানি। পানির পরিমাণ বেশী হওয়ায় তরমুজ পানি শূন্যতা দূর করে। অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে যে জরুরি খনিজ লবণ বের হয়ে যায় তা পূরণ করে দেয়।
তরমুজের এমন কিছু বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, যা মস্তিষ্ক থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্রতিটি সেলকে কার্যকরী করে তোলে। তরমুজে চর্বি নেই, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, পটাসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ হতে বাধা দেয়। শরীরের কুইড ও মিনারেলসের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। কিডনি ও চোখের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টির জোগান দেয়, হাড়ের ক্যালসিয়াম ধরে রাখে এবং হাড়ের জোড়া মজবুত করে। এ ছাড়া শরীরে জমে থাকা চর্বি কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। তরমুজে সিট্রলাইন নামে একটি এমিনো এসিড থাকে, যা কিডনীর জন্য অত্যন্ত উপকারী, এতে খুব অল্প পরিমাণে ক্যালরি থাকায় পেট ভরে তরমুজ খেলেও সে অনুযায়ী শরীরে ওজন বাড়ে না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত তরমুজ খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। গর্ভবর্তী ও স্তন্যদানকার্রী নারীরা নিয়মিত তরমুজ খেলে সন্তানদের রাতকানা, জেরোসিস, জেরোপথ্যালমিয়া, চোখ উঠা রোগগুলো সহজে হবে না।
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তরমুজ থাকলে আপনার দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকবে। কারণ তরমুজে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ থাকে। আর ভিটামিন ‘এ’ থাকা না-থাকার উপর নির্ভর করে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকা বা না-থাকা। ভিটামিন ‘এ’ কে চোখের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ বলা হয়। আর কারো ত্বকে ঋৎববশষব বা মেচেতা থাকলে তরমুজের সমৃদ্ধ ভিটামিন ‘এ’ এর প্রভাবে রেহাই পেতে পারেন। নিয়মিত তরমুজ খেলে শরীরে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া লাবণ্য ফিরে পাওয়া যায় এবং উজ্জ্বলতা বাড়ে। তরমুজের ভিটামিন ‘সি’ ক্যারোটিন ও পটাসিয়াম শরীরের কলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, প্রস্রাবের ধারা স্বাভাবিক থাকে এবং কিডনি পাথর রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে হাড়ের ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দেয় স্বাভাবিক। তরমুজ এ সময় শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়ায়। এ বাড়তি চাহিদা পূরণ না হলে হাতে পায়ে ব্যাথা হবে এবং হাঁটাহাঁটিতে সমস্যা হবে অথচ বয়স বাড়লে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা সার্বিক ভাবে শরীর সুস্থ রাখার জন্য জরুরি। আপনি যদি নিয়মিত তরমুজ খান, তবে এর ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়াম শরীরে হাড়কে মজবুত রাখবে, আর এ সুফল পাওয়া যাবে বয়সকালে।
টেক্সাস এ অ্যন্ড এম ইউনিভার্সিটির গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা যৌনশক্তির দিক থেকে দুর্বল তাদের জন্য তরমুজ প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে কাজ করে। একটি তরমুজে প্রচুর পরিমাণে সিট্রোলিন নামের এমাইনো এসিড থাকে যা ভায়াগ্রার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। তরমুজে আছে যৌনশক্তি বৃদ্ধির অকল্পনীয় খাদ্যগুণ। এই জন্য তরমুজকে বলা হয় প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা। কেউ কেউ সহজ লভ্য এই ফলটিকে গরীবের ভায়াগ্রা মনে করেন।
লেখক : সাংবাদিক