ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ-২০১৯

তথ্য সন্ত্রাস ও অসহিষ্ণুতা রুখতে তরুণদের অঙ্গীকার

20

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক প্রচারণার কারণে সৃষ্ট বিভেদ-অসহিষ্ণুতা দূর করার অঙ্গীকার করেছেন ‘ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ’ ২০১৯-এ অংশগ্রহণকারী তরুণরা। তথ্যের কারণে সৃষ্ট বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা দূর করার আইডিয়া খুঁজে বের করার লক্ষ্যে স¤প্রতি সিলেটে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত হয় ‘ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ’ ২০১৯। প্রতিযোগিতার শেষ দিন গত ২ মে বৃহস্পতিবার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে ওই অঙ্গীকার করেন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা।
ফেসবুক, মাইক্রোসফট ও বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের সহযোগিতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইউএনডিপি। দেশ ও প্রবাসের সবাইকে সাথে নিয়ে সম্প্রীতির দেশ গড়ার জন্য এই তিন দিনের আইডিয়া ল্যাবে অংশগ্রহণ করে প্রথমিকভাবে নির্বাচিত হয় সাতটি দল। তাদের আইডিয়াগুলোর গ্রহণযোগ্যতা, কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই বাছাইয়ের শেষে বিচারকগণ ঘোষণা করেন বিজয়ী তিনটি দলের নাম।
বিজয়ীরা তাদের আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য পাবেন ১০,০০০ মার্কিন ডলার এবং আগামী ৬ মাস এক্সপার্টদের পরামর্শ ও সহযোগিতা।
প্রতিযোগিতায় টিম ‘পথিকৃৎ’ প্রথম হয়েছে। তারা অনলাইন গেইমের মাধ্যমে ফেইক নিউজ প্রতিরোধের আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য জিতে নিয়েছে ৫,০০০ ইউএস ডলার প্রাইজমানি। তাদের বিশ্বাস, এই আইডিয়া বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে।
প্রথম রানার-আপ হিসেবে টিম ‘পজিটিভ বাংলাদেশ’ জিতে নিয়েছে ২’৫০০ ইউএস ডলার প্রাইজমানি। এই অর্থ তাদের আইডিয়াকে আরো টেকসইভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে তাদের বিশ্বাস।
দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে টিম ‘বি স্কোয়াড’। তারা তাদের আইডিয়াটি বাস্তবায়নে জিতে নিয়েছে ২,৫০০ ইউএস ডলার প্রাইজমানি।
ইউএনডিপি জানায়, তারা বিজয়ী দলের সাথে পথ প্রদর্শক হিসেবে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। তাদের আইডিয়া ও পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে সব ধরনের সহায়তা করবে। এছাড়াও বিজয়ীদের প্রতিষ্ঠিত করতে তাদের প্রচার এবং আইডিয়া বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের পরিচালক সুদীপ্ত মুখার্জি অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বলেন- ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ৬৬ ভাগ কর্মক্ষম তরুণদের দেশ। ইউএনডিপি এই বৃহৎ তরুণ প্রজন্মকে গঠনমূলক ও ইতিবাচক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতি তাদের দায়িত্বটিকে মনে করিয়ে দিতে চায়। আমাদের বিশ্বাস এই তরুণেরাই অনলাইন, সোশ্যাল মিডিয়া ও দেশ থেকে বিভেদ ও সহিংসতা দূর করতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মেধাবী তরুণদের থেকে পাওয়া প্রতিটি সৃজনশীল আইডিয়া আমাদের জানান দেয় যে, তাদের জন্য ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা কতটা দরকার।’
‘তরুণদের মধ্যে থাকা প্রতিভা ও আইডিয়াগুলোর মাধ্যমে বাংলার মানুষের শান্তিপ্রিয় স্বভাব ও সম্প্রীতির চেতনাটিকে তুলে এনে সামজিক বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা দূর করা সম্ভব। ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ সমমনা মানুষদের একত্রিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম, এর মাধ্যমে সেই কাজটিই করছে ইউএনডিপি।’
‘এছাড়াও নতুন ও বিদ্যমান আইডিয়া ও ধারণাগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে স্পন্সর ও সহযোগিতার মাধ্যমে কমিউনিটির ক্ষমতায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’