ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির নম্বর প্লেট প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজতর করা জরুরি

32

মোটরযান চালনায় দক্ষতা খুবই জরুরি একটা বিষয়। বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং গাড়ির নম্বর প্লেই প্রদান করে থাকে। বিআরটিএ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের দূর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানির কারণে ড্রাইভাররা নতুন লাইসেন্স ও নবায়নের জন্য বিআরটিএ’র আঙ্গিনা মাড়ায় না। লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চালায়। লাইসেন্সের মেয়াদ শেখ হলে তা আর নবায়ন করতে যায় না। সরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশ তাদের নিকট হতে টুপাইস হাতিয়ে নিতে পারে। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ভারীযানের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে ড্রাইভারদের পদে পদে হয়রানি করা হচ্ছে। হালকা মোটরযান চালনার পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীরা তিন বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হলে সরকারি ভাবে ভারী মোটরযান চালনার লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও বিআরটিএ চট্টগ্রাম শাখার কর্মকর্তারা তা মানছেনা বলে অভিযোগ ভারী মোটরযান চালনার লাইসেন্স প্রার্থীদের। পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিআরটিএ’র কর্মকর্তা বলছেন তিন বছরের অধিক এবং ২৬ বছরের বেশি চালকদের ভারী মোটরযান চালনার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। কিন্তু দালালদের মোটা অংকের টাকা দিলে ঠিকই লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে দালালদের দৌরাত্ম্য আর কর্মকর্তাদের হয়রানির কারণে হালকা মোটরযান চালনার জন্য অধিকাংশ চালক লাইসেন্স নিতে যায় না বিআরটিএ’র কাছে। এমন পরিস্থিতির কারণে হালকা মোটরযানের লাইসেন্স সংগ্রহ কমে গেছে। কোন লাইসেন্সই যদি চালকরা সংগ্রহ না করে তবে কিভাবে তিন বছর হোক বা ২৬ বছর হোক লাইসেন্সের অভিজ্ঞতা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চালকরা কিভাবে অর্জন করবে ?
অন্যদিকে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশে অসংখ্য সিএনজি অটোরিক্সার ড্রাইভারদের লাইসেন্স যেমন নেই, তেমনি গাড়ি নম্বর প্লেটসহ কোন কাগজপত্রও নেই। সে সব মোটরযানও দেশের সড়কগুলোতে চলছে।। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করাতে সড়কে অবৈধ গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিআরটিএ’র মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ সড়কে যে সব অনিয়ম চলছে তার সুরাহা করতে আন্তরিকতার স্বাক্ষর রাখছেনা। ফলে সড়কে চাঁদাবাজি বেড়েছে, সিন্ডিকেট বাড়ছে, পুলিশ ও চাঁদাবাজরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। সরকার সড়কের গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট হতে প্রাপ্য মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সড়কে দূর্ঘটনা বাড়ছে, যাত্রী হয়রানি বাড়ছে, বাড়ছে পরিবহন সেক্টরে অনিয়ম ও দূর্নীতি। দেশের সড়কে এ অবস্থা আর কতদিন চলবে জানি না। সড়কের এবং যানবাহন সেক্টেরের দূর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজির খেসারত দিতে হয় যাত্রী সাধারণকে। দেশে পরিবহন আইন আছে, সড়কের যানবাহন ও চালকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য বিআরটিএ আছে। কিন্তু তারা সততা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠার সাথে পরিবহন সেক্টরের উন্নতির কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে পুরো সেক্টরটাকে অনিয়ম দূর্নীতি ও চাঁদাবাজির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা আর কতদিন চলবে ? আমরা মনে করি আইনকে সহজতর করে, বিআরটিএ’র সেবার মান বাড়িয়ে দেশের সকল গাড়ী চালক এবং সব ধরণের যানবাহনকে আইনের আওতায় এনে পরিবহন সেক্টরকে লাভজনক এবং যাত্রী সাধারণের জন্য উপকারী করে তুলতে সংশ্লিষ্টদের পরিচকল্পিত কার্যকর ব্যবস্থ গ্রহণ জরুরি।