ডিজিটাল পড়ার ঘর

15

ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তৈরি করেছে সনদ। এর নাম ডিজিটাল স্টাডি রুম। সনদ এডুকেশনের তৈরি ডিজিটাল স্টাডি রুমে জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব কনটেন্ট ব্যবহার করতে পারে স্বল্প খরচেই।
এখন প্রাথমিক স্তরে ১১ বছর পর্যন্ত যা শেখানো হচ্ছে, তা মূলত অন্যান্য দেশের শিশুরা সাড়ে ছয় বছরের মধ্যেই শিখছে। ফলে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তর শেষ করলেও তারা সাড়ে চার বছর পিছিয়ে থাকছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় এ শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম সরবরাহ করছে সরকার। শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া-নির্ভর ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
করা হয়েছে। এর সুফল পেতে ডিজিটাল স্টাডি রুমের মতো সেবা কাজে লাগবে।
সনদ এডুকেশনের চেয়ারম্যান সাজিদা রহমান ড্যানি বলেন, ২০১২ সাল থেকে তাঁরা ডিজিটাল শিক্ষার উপকরণ তৈরিতে কাজ শুরু করেন। এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কম্পিউটার প্রকৌশলী সাইদুজ্জামান। পরে ডিজিটাল মাধ্যমে একে এগিয়ে নিতে শিক্ষকদের সমন্বয়ে তৈরি শুরু হয় যুগোপযোগী কনটেন্ট। ২০১৫ সালে তাঁরা এসব উপকরণ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেন। শুরুতে অবশ্য কিছুটা হোঁচট খেতে হয়। তবে দমে যাননি তাঁরা। বর্তমানে রাজধানীর পান্থপথের অফিসে পূর্ণকালীন ও খন্ডকালীন মিলে ২৪ জন কর্মী কাজ করছেন সনদে।
ড্যানি বলেন, এখন পর্যন্ত তাঁদের ৩৮ হাজার কনটেন্ট বিক্রি হয়েছে, যা একক ক্রেতা হিসেবে কিনেছে শিক্ষার্থীরা। এখানে ৮ হাজার ভিডিও কনটেন্ট আছে। এটি মূলত ডিজিটাল পড়াশোনার একটি প্ল্যাটফর্ম। বিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে এটি যুক্ত হলে শিক্ষার্থীর আলাদা কোচিংয়ের প্রয়োজন নেই। এই সিস্টেমের সঙ্গে পরীক্ষাপদ্ধতি সংযুক্ত করা সম্ভব, ভুল প্রশ্নপত্র অথবা প্রশ্নপত্র ফাঁসেরও কোনো সুযোগ নেই। এটি শহর, গ্রাম তথা দেশের সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এই পদ্ধতি দেশের যোগ্য শিক্ষকের স্বল্পতাকেও পূরণ করতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিশীলিত ও সম্পূরকভাবে তৈরি করা সম্ভব।
সনদের ডিজিটাল কনটেন্টগুলো পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন স্কুলে এবং শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করেছে। এখন সনদের ডিজিটাল স্টাডি রুমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী। ওয়েবসাইটে এবং ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত আছে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী। ইন্টারনেট ছাড়াও বা অফলাইনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে শেখার সুযোগ আছে এতে।
সাজিদা রহমান বলেন, বর্তমানে শিক্ষায় যে বৈষম্য এবং এ খাতের বিশৃঙ্খলা ঠিক করার সমাধান হতে পারে ডিজিটাল শিক্ষা। প্রতিটি স্কুলে ডিজিটাল কনটেন্ট চালানোর ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা স্কুলেই পাবে তেমনি শিক্ষকেরা বেশি সময় দিতে পারবেন। শুধু যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত হবে, তা-ই নয়, নতুন বিষয়গুলোর জন্য শিক্ষকেরাও নতুন করে শেখার উপকরণ খুঁজে পাবেন। এতে প্রশিক্ষণ ব্যয় কমবে। তাঁদের তৈরি ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ জাতীয় শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে একীভূত হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।