পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ

ডা. শাহাদাতসহ ২১ নেতাকর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

17

নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ২১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে নাসিমন ভবনের সামনে তাদের আটক করে পুলিশ। তবে নাসিমন ভবন ছাড়া নগরীর কোথাও বিএনপির তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মহিলা দলের ৯ জন নেত্রীও রয়েছেন।
খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে সকালে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে নূর আহমদ সড়কস্থ নাসিমন ভবনের সামনে ফুটপাতে অবস্থান নেন নেতা-কর্মীরা। পুলিশের তৎপরতায় তারা ফুটপাত ছেড়ে নাসিমন ভবন চত্বরে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর পুলিশ পুরো নাসিমন ভবন অবরুদ্ধ করে রাখে। দুপুর দেড়টার দিকে ডা. শাহাদাতসহ নেতাকর্মীরা নাসিমন ভবনের ফটকের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে পুলিশও অবস্থান নেয়। এসময় মহিলা দলের এক নেত্রী একজন পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দেয়। এরপর পুলিশ মহিলা দলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাসিমন ভবনে ঢুকিয়ে দেয়। এসময় নাসিমন ভবন ও আশপাশের ভবন থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের লাঠিচার্জে বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানসহ অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের দশ সদস্যও আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক আনজুমন নাহার পান্না, বিএনপি নেত্রী ফরিদা আক্তার, আঁখি সুলতানা, বিএনপি নেতা আলমগীর নূর, ইমন রয়েছেন। এরপর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে নাসিমন ভবনের সামনে রাস্তায় পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান আসে। প্রিজন ভ্যানটি আসামাত্রই পুলিশ ভবনে প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থান নেওয়া নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনসহ আরো কয়েকজনকে আটক করা হয়। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই তাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
নগর পুলিশের উপ কমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসাইন বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবেই অবস্থান করেছিলো। হঠাৎ করে দুপুরে তারা পুলিশের উপর হামলা করে। দলীয় কার্যালয় ও আশপাশের বিল্ডিং থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে আমাদের ৮-১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদের এমন নাশকতামূলক কাজের জন্য আমরা কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করি।
নগর পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিজেদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর ঢিল ছোঁড়ে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এরপর পুলিশ অ্যাকশনে গিয়ে শাহাদাত হোসেনসহ ১০-১২ জনকে আটক করেছে।
এদিকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ছোঁড়া ঢিলে আহত ১০ পুলিশ সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.জসিম উদ্দিন।
পুলিশের পক্ষ থেকে গতকাল রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত কতজনকে আটক করা হয়েছে তা জানানো হয়নি। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদের মধ্যে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, মহিলা দলের আঁখি সুলতানা, বেগম লুৎফুর নেছা, আনজুমান নাহার পান্না, ফরিদা আক্তার, জান্নাতুল নাইম রিকু, সেলিনা আকতার, আঁখি আকতার, মাহমুদ আকতার রিতা, ঝুমু আকতার লুনা, বিএনপি নেতা আলমগীর নূর, মো. আরিফ, মো. হাকিম, মো. আকাশ, মো. মান্নান, মো. ঈসমাইল রয়েছে বলে দাবি করা হয়।