ডাভোস সম্মেলনে আবার মুখোমুখি ট্রাম্প-গ্রেটা

14

গতবছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের পর এবার ডাভোসের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ফের মুখোমুখি হয়েছেন কিশোরী জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থানবার্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে বার্ষিক সম্মেলন। চলবে শুক্রবার পর্যন্ত। গ্রেটা এবং ট্রাম্প দুইজনই এতে অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার দুইজনই সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন এবং একে অপরকে খোঁচা দিয়ে কথা বলেছেন।
বক্তব্যে ট্রাম্প সরাসরি গ্রেটার নাম না নিলেও তাকে ইঙ্গিত করে সমালোচনা করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নেতিবাচকতা পরিহারের জন্য সম্মেলনের নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, আগামি দিনের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে হলে আমাদেরকে জলবায়ু নিয়ে যারা সবসময় ‘অশুভ কিছু ঘটা’ এবং বিশ্বে ‘বিপর্যয় ঘনিয়ে আসার’ চিন্তা করে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
জলবায়ু সংকটের ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার দৃষ্টিকোণ নিয়ে বাড়তে থাকা সমালোচনা সামাল দেওয়ার চেষ্টায় আগামি ১০ বছরে ১ ট্রিলিয়ন গাছ লাগানোর একটি পরিকল্পনায় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ৩০ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প তার কাছে পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সমুন্নত রাখার পক্ষও সমর্থন করেন তিনি।
বক্তব্যে ট্রাম্প তুলে ধরেন দেশে তার অর্থনৈতিক অর্জনের খতিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে দেশীয়ভাবে ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ যোগ হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া গত সপ্তাহে অসাধারণ দুটো বাণিজ্য চুক্তিও সই হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। খবর বিডিনিউজের
তবে ডাভোসের এ সম্মেলনে আলোচ্যসূচির শীর্ষে স্থান পেয়েছে পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি। আর সে প্রসঙ্গেই কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জলবায়ুকর্মীদের ‘নৈরাশ্যবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি নেতিবাচক নয় ইতিবাচক চিন্তার সময়।
অন্যদিকে, গ্রেটাও তার বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। তবে জলবায়ু নিয়ে আবারো নেতাদের সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি এ ব্যাপারে আরোবেশি কিছু করার দাবি জানান। ট্রাম্প গাছ লাগানোর যে পরিকল্পনার কথা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তা যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেন গ্রেটা। রাজনৈতিক নেতাদের ফাঁকা বুলি এবং প্রতিশ্রূতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
জলবায়ুকর্মীদেরকে নেতিবাচক বলে সমালোচনা করা আর কাজের কাজ কিছুই না করে বসে থাকা কোনো সমাধান নয়- উল্লেখ করে গ্রেটা বিশ্ব নেতাদেরকে তরুণদের কথা শোনার আহ্বান জানান। আগের বলা কথার পুনরাবৃত্তি করে গ্রেটা বলেন, ‘আমাদের বাড়ি এখনো পুড়ছে। আপনারা হাত পা গুঁটিয়ে বসে থাকার কারণে আগুনের শিখা আরো বাড়ছে’।
এর আগে গতবছর সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প এবং গ্রেটা দুইজনই। তবে সে সময় একে অপরকে দূর থেকে দেখলেও কেউ কারো সাথে কথা বলেননি। ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেননি গ্রেটা। আর ট্রাম্প পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও গ্রেটাকে যেন লক্ষ্যই করেননি এমনভাবে চলে গিয়েছিলেন।