ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম টেনে ধরল ভোটাররা

4

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দু’বছরের মাথায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়ে আদতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতারই লাগাম টেনে ধরেছে ভোটাররা। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এক দলের আধিপত্যের অবসান হয়েছে। সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও হাউস ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়ায় কংগ্রেসে ট্রাম্পের সব কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া আগের মত আর অতটা সহজ হবে না।
দুই বছর আগে নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে গিয়ে দেশ পরিচালনায় নিজের মত করে কিছু কৌলশ অবলম্বন করেছেন ট্রাম্প। মার্কিনিরা তার এসব কৌশল কতটা পছন্দ করছে তা জানার সবচেয়ে বড় মঞ্চ ছিল এই মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ ভোটে দেশজুড়ে শহর ও শরতলীর ভোটাররা হোয়াইট হাউজকে এ স্পষ্ট বার্তাই দিয়েছেন যে, তারা ট্রাম্পকে রাখতে চান সংযত, যাচাই করে নিতে চান তার প্রেসিডেন্সিকে। তবে পল্লী এলাকার লোকজন এখনো ট্রাম্পের উপর আস্থা হারাননি; যার প্রমাণ সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা।
হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস অর্থাৎ, প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫ আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪১১ আসনের ফল প্রকাশ হয়েছে। তার মধ্যে ২১৮টি আসনে জয়লাভ করে ডেমক্রেটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। রিপাবলিকানরা জয়ী হয়েছে ১৯৩টি আসনে। এখনও ২৪টি আসনের ফল বাকী। মঙ্গলবার ডেমক্র্যাটিক পার্টি ৫০ দশমিক ১ শতাংশ এবং রিপালিকান পার্টি ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত কংগ্রেসের যাত্রা শুরু হবে। ডেমোক্র্যাটরা তখন ট্রাম্পের অনেক সিদ্ধান্তেরই রাশ টেনে ধরতে পারবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তসহ ট্রাম্পের ব্যবসায়িক দিকগুলো এমনকি তার বিরুদ্ধে কর রিটার্ন সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও তদন্ত শুরু করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের অসদাচরণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে পারবেন তারা। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে মুলারও এখন তদন্তে কোনো প্রমাণ পেলে তা নিয়ে অনেকটাই নির্বিঘেœ এগুতে পারবেন।
ট্রাম্পের মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার পরিকল্পনাও ডেমোক্র্যাটরা ভেস্তে দিতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবিও তুলতে পারেন তারা। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য জেরোল্ড নাডলার টুইটারে বলেন, “আমেরিকার জনগণ আজ সরকারের কাছে তাদের কাজের জবাব চেয়েছে। তারা খুব পরিষ্কার করে কংগ্রেসের কাছে তাদের চাহিদার বার্তা পাঠিয়েছে।”
নিউ ইয়র্কের এই ডেমক্র্যাটিক নেতা নিম্নকক্ষের বিচারবিভাগীয় কমিটির প্রধান হতে পারেন বলে জানিয়েছে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’। তিনি আরও বলেন, “হয়ত প্রেসিডেন্টের এটি পছন্দ হবে না। কিন্তু তিনি এবং তার প্রশাসনকে আমেরিকার জনগণ এবং আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।”
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়াকে কাজে লাগিয়ে ডেমক্র্যাটিক নেতারা এখন ২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পথ প্রশস্ত করার আশায় আছেন। ডেমোক্র্যাট নেতারা এরই মধ্যে বলেছেন, তারা প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম মাসেই ভবিষ্যৎ পচারণা এবং নৈতিক আইনগুলোতে আমূল পরিবর্তন আনতে চান। সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে বলেই আশা করছে।