ট্রাফিক পুলিশের সুপারিশগুলো যথার্থ প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

31

দেশের দুই প্রধান শহরে যানজট এখন নতুন কোন সমস্যা নয়; বরং স্বাভাবিক ঘটনার অংশই পরিণত হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন, সেবাদানকারী সংস্থা ও ট্রাফিক পুলিশ নানা কর্মকৌশল গ্রহণ করেও যানজটের কোন সুরাহা করতে পারছে না। এর ফলে মানুষের জীবনের গতি হয়ে পড়ছে স্থবির। শ্রমঘন্টা নষ্ট হচ্ছে পথে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সব জায়গায় কমে যাচ্ছে কাজের গতি। মুমূর্ষু রোগী থেকে শুরু করে কত প্রসূতি মা ও শিশুর জীবনপ্রদীপ পথেই নিভেয়ে দিচ্ছে এ যানজট। এরসাথে স্কুল-কলেজ এমনকি শিক্ষার্থীরা সময়মত পরীক্ষার হলেই যেতে পারছে না। একজন পরীক্ষার্থীর চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে পড়েছে যানজট। এরমধ্যেই চলে এসেছে রোজা। সিয়াম-সাধনায়রত সাধারণ মুসলমানদের কাছে আর যাই হোক যানজট যে, একটি অসহ্য যন্ত্রণার বিষয়-তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চট্টগ্রাম নগরীতে এমন কোন সড়ক নেই যেখানে নিত্যযানজট লেগে থাকছে না। এনিয়ে সংবাদপত্রে বিস্তর লেখা ও সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু সময়ে কোন ব্যবস্থা কোন পক্ষই কার্যকরভাবে গ্রহণ করেনি।
রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহ অতিক্রম হতে যাচ্ছে। খোঁড়াখুঁড়ি, সড়ক সংস্কার, রেল ক্রসিং, যত্রতত্র পার্কিং ও হকারদের সড়ক দখল করে মালামাল বেচাকেনা ইত্যাদির কারণে সড়কে যানজটও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বিষয়টি দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছে বলে মনে হয় ট্রাফিক পুলিশ। তারা নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ৭টি সুপারিশ নগরীর সেবা সংস্থাগুলোর কাছে তুলে ধরে সহযোগিতা চেয়েছেন। মঙ্গলবার চসিক ভবনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মধ্যে এ সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাফিক পুলিশের পেশকৃত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রতিনিধিদের সাথে নানামুখী আলাপ-আলোচনা করেছেন। আলোচনায় নগরজুড়ে কমপ্রিহেনসিভ ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুকরণ, আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতিকে সমন্বিতকরণ, চলতি রমজান মাসে সল্টগোলা রেলক্রসিং এলাকায় রেলগেট বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা, ইস্টার্ন রিফাইনারি, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা অয়েল কোম্পানিসহ বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ড্রাই ডকের সকল ধরনের পরিবহনের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারিকরণ, সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা মাটি অপসারণে সিটি কর্পোরেশনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং পোর্টকানেকটিং রোড আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, আরকান সড়ক, হাটহাজারী সড়কসহ যে সকল সড়কে ওয়াসার পাইপ লাইনের কর্তন কাজ চলমান আছে সে সকল সড়কে অন্ততঃ এক পাশ দুই লাইনে যান ও পরিবহন চলাচলে উপযোগী করাসহ ৭ টি সুপারিশ বাস্তবায়নের ব্যাপারে উপস্থিত কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা ঐক্যমত পোষণ করেন।
বৈঠকে মেয়র জনস্বার্থ বিবেচনায় রেখে চলতি রমজানে যানজট সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে কাজ করার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নগরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নিয়ন্ত্রণকারী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সড়ক মোড়গুলোতে নানামুখী যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন তার বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সকলপ্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দিযেছে এবং যে সকল সড়কে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে সেখানে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিকল্প সড়ক চালুকরণ, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নিমতলা বিশ্বরোড থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত চলমান উন্নয়ন কাজে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা মাটি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অপসারণ করবে এবং পোর্টকানেক্টিং রোড অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার কথা ঘোষণা করেন।
বৈঠকে তিনি সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার রেলগেট বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা, জাকির হোসেন রোডের রেলগেট সংস্কারকরণে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ইতিবাচক সহযোগিতাও কামনা করেছেন। আমরা ট্রাফিক পুলিশের সুপারিশ ও ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে সুপারিশ বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে স্বাগত জানাই। নগরীর উন্নয়ন কর্মকান্ডে সমন্বয়ের অভাবে নগরবাসী যে চরম দুদর্শায় জীবন যাপন করছে তা থেকে রেহাই পেতে এমনটি উদ্যোগ সময়োপযোগী ও যথার্থ। আমরা আশা করি, রমজানের বাকি যে দিনগুলো আছে এবং সামনে ঈদের বাজার ও কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারে, তার জন্য এমনটি উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আমরা আশা করি উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে এমনটি সমন্বিত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।