ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য আনতে কলকাতা যাচ্ছে ‘সেঁজুতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

21

প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে সড়কপথে কন্টেইনারে পণ্য পরিবহনের ‘ট্রায়াল রান’ শুরু হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ‘এমভি সেঁজুতি’। আজ সোমবার জাহাজটি কলকাতা পৌঁছুবে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালের ১ নম্বর জেটি থেকে রপ্তানি পণ্য ভর্তি ও খালি কন্টেইনার মিলে ১৫৫ টিইইউ’স নিয়ে জাহাজটি বহির্নোঙরে পৌঁছে। সেখান থেকে শনিবার কলকাতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
৯৫ মিটার লম্বা এমভি সেঁজুতি জাহাজে ৩৭২ টিইইউস কন্টেইনার পরিবহন করার সক্ষমতা রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, কলকাতা-চট্টগ্রাম-আখাউড়া ট্রান্সশিপমেন্টের ট্রায়াল রান শিগগির শুরু হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যেহারে ট্রান্সশিপমেন্ট ফি নির্ধারণ করবে তা আদায়ের পর, কন্টেইনারের সিল বা লক পরীক্ষা করে কাস্টমসের অধীনে এসকর্ট দিয়ে কন্টেইনারগুলো আখাউড়া বিবিরবাজার পৌঁছে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্টের প্রথম ট্রায়াল রানে ৪টি কনটেইনার আসবে। ১৪ বা ১৬ জুলাই সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় আমাদের চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিয়ম অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ ট্রান্সশিপমেন্টের কন্টেইনার প্রতি ট্যারিফ আদায় করবে।
‘এমভি সেঁজুতি’র স্থানীয় এজেন্ট ম্যাংগো শিপিং লাইনের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালের ১ নম্বর জেটি থেকে শুক্রবার রপ্তানি পণ্য ভর্তি ও খালি কন্টেইনার মিলে ১৫৫ টিইইউ’স নিয়ে জাহাজটি বহির্নোঙরে পৌঁছে। সেখান থেকে শনিবার কলকাতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সোমবার (আজ) জাহাজটি কলকাতা পৌঁছুবে। এরপর জাহাজটি অন্যান্য কন্টেইনারের পাশাপাশি ৪ কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। বন্দর ও কাস্টমসের ফি পরিশোধের পর চুক্তি অনুযায়ী কন্টেইনারগুলো সড়কপথে আখাউড়া পাঠিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ভারতের পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের মাশুল আদায় করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি চালানের প্রসেসিং মাশুল, প্রতি টন পণ্যের ওপর ট্রান্সশিপমেন্ট মাশুল, নিরাপত্তা মাশুল, এসকর্ট মাশুল, প্রশাসনিক মাশুল, স্ক্যানিং ও ইলেকট্রিক সিলের মাশুল ইত্যাদি। প্রতি কন্টেইনারে অর্ধশতাধিক ডলার মাশুল পেতে পারে বাংলাদেশ।