ট্রাকচালক হত্যা মামলায় ভোলা রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক

27

চাকরি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা (৪৫) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ডবলমুরিং থানার ট্রাকচালক আবদুল গফুর হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী সংস্থা নগর গোয়েন্দা পুলিশের দাখিল করা আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে নিযুক্ত নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, ‘২০১৫ সালে ডবলমুরিং থানায় দায়ের হওয়া গফুর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আসামি এহতেশামুল হক ভোলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন দাখিল করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। রিমান্ড শুনানির জন্য ভোলাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের নিচে ট্রাকচালক আবদুল গফুরকে (৪৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুল আলম এই মামলায় ভোলাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য চলতি বছরের গত ২৮ আগস্ট আবেদন করেন। আর শুনানি শেষে গত ৩০ আগস্ট আদালত তাকে ওই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার দেখান। এর আগে তাকে ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি চকবাজারের তেলিপট্টি মোড় এলাকায় নার্সিং কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা অঞ্জলী রানী দেবী হত্যা মামলায়ও আদালতের মাধ্যমে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। কারাগারে আটক ভোলার বিরুদ্ধে নগরীর চান্দগাঁও, বাকলিয়া, পাঁচলাইশ থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির অভিযোগে সর্বমোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন পুলিশের অব্যাহতিপ্রাপ্ত এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম ওরফে মিতু। হত্যাকাÐের পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই বছরের ২৭ জুন মিয়াখাননগর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ এহতেশামুল হক ভোলাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন একই এলাকা থেকে সহযোগী মনির হোসেনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দু’জনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করে পুলিশ। গতবছরের ২৮ জুলাই আদালতে অস্ত্র মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মহিম উদ্দিন। বর্তমানে অস্ত্র মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলছে। অপরদিকে, গোয়েন্দা পুলিশ এহতেশামুল হক ভোলাকে মিতু হত্যাকাÐের ‘অস্ত্র সরবরাহকারী’ এবং জব্দকৃত অস্ত্র মিতু হত্যাকাÐে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করে। সেই সূত্র ধরে তাকে মিতু হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এরপর সিআইডির ল্যাবে ব্যালাস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে জব্দকৃত অস্ত্র দিয়ে মিতুকে গুলি করার বিষয়টি নিশ্চিত হয় গোয়েন্দা পুলিশ। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। অবশ্য, মিতু হত্যা মামলায় আসামি ভোলা গত ৬ মে উচ্চ আদালত থেকে ছয়মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেছেন।