টি-টোয়েন্টি শিরোপাও ছিনিয়ে নিল টাইগাররা

পূর্বদেশ ক্রীড়া ডেস্ক

11

লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং ও কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়ান ডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল বাংলাদেশ। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের লডারহিলে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জিতেছে টাইগাররা। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল সাকিব আল হাসানের দল। এই প্রথমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করল বাংলাদেশ। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছিল সাত উইকেটে। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ১২ রানে।
এদিন বাংলাদেশের দেয়া ১৮৫ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৭.১ ওভারে সাত উইকেটে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন আন্দ্রে রাসেল।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি এবং রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি, সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকার প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম উইকেট হারায় দলীয় ২৬ রানে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে নাজমুল ইসলামের হাতে ক্যাচ হন আন্দ্রে ফ্লেচার। সাত বল খেলে ছয় রান করেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমানের পর আঘাত হানেন সৌম্য সরকার। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন চাঁদউইক ওয়ালটন। ১৯ বল খেলে ১৯ রান করেন তিনি।
ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে বোল্ড হন মারলন স্যামুয়েলস। সাত বল খেলে দুই রান করেন তিনি। ১২তম ওভারে রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড হন রামদিন। ১৮ বলে ২১ রান করেন তিনি। ১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আবু হায়দার রনির হাতে ক্যাচ হন রভম্যান পাওয়েল।
১৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে ফেরান আবু হায়দার রনি। সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন ব্র্যাথওয়েট। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আরিফুল হকের হাতে ধরা পড়েন আন্দ্রে রাসেল। ২১ বল খেলে ৪৭ রান করেন তিনি। এই রান করার পথে তিনি একটি চার মারেন ও ছয়টি ছক্কা হাঁকান।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৮৪ রান করেছে টিম বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটিই দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ১৭৯। এই ম্যাচে বাংলাদেশ আরো একটি রেকর্ড গড়েছে। সেটি হলো বাংলাদেশ আজ ব্যাটিংয়ে নেমে ৩.৪ ওভারে তথা ২২ বলে দলীয় অর্ধশত পূরণ করে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এটি দলীয় দ্রæততম হাফ সেঞ্চুরি।
দলের পক্ষে টাইগার ওপেনার লিটন দাস হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৩২ বলে ৬১ রান করেন তিনি। এছাড়া ১৩ বলে ২১ রান করেন তামিম ইকবাল। ২৪ রান করেন সাকিব আল হাসান। ২০ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৬ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন আরিফুল হক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও কিমো পল ২টি করে এবং কেজরিক উইলিয়ামস ১টি উইকেট শিকার করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ফল : বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয়ী বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ইনিংস: ১৮৪/৫ (২০ ওভার)
(লিটন দাস ৬১, তামিম ইকবাল ২১, সৌম্য সরকার ৫, মুশফিকুর রহিম ১২, সাকিব আল হাসান ২৪, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩২*, আরিফুল হক ১৮*; স্যামুয়েল বাদরি ০/২৩, অ্যাশলে নার্স ০/৩১, আন্দ্রে রাসেল ০/৩৬, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ২/৩২, কিমো পল ২/২৬, কেজরিক উইলিয়ামস ১/৩২)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস: ১৩৫/৭ (১৭.১ ওভার)
(চাঁদউইক ওয়ালটন ১৯, আন্দ্রে ফ্লেচার ৬, মারলন স্যামুয়েলস ২, রভম্যান পাওয়েল ২৩, দিনেশ রামদিন ২১, আন্দ্রে রাসেল ৪৭, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ৫, অ্যাশলে নার্স ০*; আবু হায়দার রনি ১/২৭, রুবেল হোসেন ১/২৮, মোস্তাফিজুর রহমান ৩/৩১, নাজমুল ইসলাম অপু ০/২, সৌম্য সরকার ১/১৮, সাকিব আল হাসান ১/২২)।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: লিটন দাস (বাংলাদেশ)। প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।