টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন

এম এ হোসাইন

13

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় জলজট দেখা দিচ্ছে। পানি ঢুকে পড়ছে নগরীর নিচু এলাকার বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালেও ঢুকে পড়েছে পানি। অন্যদিকে রাস্তায় পানি জমে থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বৃষ্টিপাত শুরু হয় গত রবিবার থেকে। কখনো থেমে থেমে আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৯৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অফিস টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা করছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল রয়েছে। বন্ধ রয়েছে বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামার কাজ। কোনো নৌকা বা ট্রলারও উপকুল থেকে সাগরে মাছ ধরতে যায়নি।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মেঘনাদ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পুরো দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু প্রবলভাবে সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারি বর্ষণ হচ্ছে। এ বৃষ্টিপাত আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো কোনো পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হওয়াসহ বেশ কয়েকটি সড়কে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এরমধ্যে বিমানবন্দর সড়কে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের কবলে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে ফ্লাইট মিস হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় দেশের ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জেও। অনেক দোকান ও গোডাউনে পানি ঢুকে গেছে।
বৃষ্টিতে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া, ওয়াসা থেকে আলমাস সিনেমা হল সড়ক, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, হালিশহর, বড়পুল, শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা, কমার্স কলেজ রোড, হোটেল আগ্রাবাদের সামনেসহ বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার সাথে সাথে এসব এলাকায় দেখা দেয় পরিবহন সংকটও। অনেক জায়গায় পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। রাস্তায় পানি উঠার ফলে গাড়ি চালকরাও বন্ধ রাখে যান চলাচল। এতে লোকজনকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শৈবাল দাশ সুমন বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে। অনেক দোকানপাটেও পানি ঢুকেছে। মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটের অবস্থা ঠিক রাখতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে গতকালও বৃষ্টিতে হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে আগ্রাবাদ, এক্সেস রোড, বেপারি পাড়া, সিডিএ আবাসিক, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কাতালগঞ্জসহ অনেক এলাকা। খাল-নালা পরিষ্কার না করা, নালার মুখ বন্ধ করে রাখা, নালার উপর বৈদ্যুতিক পুল বসানো ইত্যাদি কারণে পানি নামতে পারছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা নুরুল কবির বলেন, জোয়ারের পানি থেকে বাঁচতে সিডিএ আবাসিকের বেশ কয়েকটি সড়ক উচু করা হয়েছে। বৃষ্টিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যে রাস্তাগুলো উঁচু করা হয়নি সেখানে কোমর সমান পানি উঠছে। অপরিকল্পিত কাজের কারণেই দিন দিন জলাবদ্ধতা আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
প্রবর্তক এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী শারমিন আকতার বলেন, সবকিছুর পরিবর্তন হলেও প্রবর্তকে জলাবদ্ধতার কোনো পরিবর্তন নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে, বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সড়ক রূপ নেয় খালে। বড় বড় প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। অথচ প্রবর্তক মোড়ের জলাবদ্ধতার সামান্যতমও পরিবর্তন নেই।