টানা তিন দিনের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকের ঢল

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

36

বান্দরবানসহ সারাদেশে চলছে নিবার্চনী হাওয়া। আর টানা তিনদিনের সরকারি ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে দর্শনীয় স্থানগুলোতে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের ভিড় বেড়েছে বান্দরবানের পর্যটন স্পর্টগুলোতেও।
বান্দরবান জেলার মেঘলা, নীলাচল এবং স্বর্ণ-মন্দির সব জায়গা এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পরিবার পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা চাঁদের গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পার্বত্য এই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো।
জেলা শহরের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোতে জায়গা না থাকায় বান্দরবান শহর ছেড়ে দূরে গিয়ে রাত যাপন করতে হচ্ছে পর্যটকদের। প্রায় একমাস আগে থেকেই এসব হোটেল-মোটেলে রুম বুকিং করে রাখা হয়েছিল। যারা হোটেলে রুম বুকিং না করেই বেড়াতে এসেছেন তাদের অনেকেই দিনশেষে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।
স্থানীয় পালকি গেস্ট হাউজ এর পরিচালক আলাউদ্দিন শাহরিয়ার জানান, প্রতিবছর শীত মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যটকের আগমন ঘটে বান্দরবান পার্বত্য জেলায়। কিন্তু এবার নির্বাচনের কারণে তেমন একটা পর্যটকের আগমন না ঘটলেও টানা তিনদিনের সরকারি ছুটিতে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। একসাথে এতো পর্যটক আসায় হোটেল রুম দিতে হিমশিম খাতে হচ্ছে আমাদের। আবার অনেকই হোটেলে রুম না পেয়ে অনত্র চলে যাচ্ছেন। অনেকদিন পর প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটায় হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহন সেক্টরের মালিকরা বেশ খুশি বলেও জানান তিনি।
ভ্রমণে আসা পর্যটক মো. বেলায়েত হোসেন জানান, পার্বত্য এলাকার মনোরম পরিবেশ দেখতেই বান্দরবানে বেড়াতে এসেছি। পাহাড়গুলো দেখতে খুবই সুন্দর। যাতায়ত সুবিধা থাকায় এখানে আসতে তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয়না। তাই তিনদিনের ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি।
জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার জানান, নির্বাচনী ডিউটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যস্ত সময় পার করছে। তারপরেও বান্দরবান যেহেতু পর্যটন নগরী তাই প্রচুর পর্যটক এখানে বেড়াতে আসছেন। তাদের কথা মাথায় রেখে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সাদা পোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।