টংকাবতীর অব্যাহত ভাঙন

কলাউজানে ঝুঁকিতে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৪০ বসতবাড়ি

লোহাগাড়া প্রতিনিধি

30

লোহাগাড়ায় সা¤প্রতিককালের বন্যা, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানির ঢলে কলাউজানে টংকাবতী খালের অব্যাহত ভাঙ্গন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে ৪০ বসতবাড়ি ও দু’শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হবার পথে। যে কোন মুহূর্তে খালে বিলীন হতে পারে কলাউজান দারুচ্ছুন্না আলিম মাদ্রাসা ও পূর্ব কলাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও পূর্ব কলাউজান মিয়াজি পাড়ার ৪০ পরিবার ঝুঁকি নিয়ে আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন বলে জানিয়েছেন কলাউজান ইউপি চেয়ারম্যান এম. এ. ওয়াহেদ।
ইউপি চেয়ারম্যান এম. এ. ওয়াহেদ জানান, সা¤প্রতিককালের বন্যার অব্যাহত ভাঙ্গনে ইউনিয়নের রসুলাবাদ, চিববাড়ি এবং পূর্ব কলাউজানের মিয়াজি পাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা ও বহু জনবসতি হুমকির সম্মুখিন হয়েছে। খালের গর্ভে বিলীন হওয়ায় বসতবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় আশরাফ আলী, আহমদ কবির ও ফৌজুল কবির পরিবার-পরিজন নিয়ে বর্তমানে পার্শ্ববর্তী এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এছাড়াও, বর্তমানে মিয়াজি পাড়ার ৪০ পরিবারের মধ্যে ৫ পরিবারের বসতবাড়ি অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব লোকজন টংকাবতী খাল ভাঙ্গন আতংকে দিনযাপন করে যাচ্ছেন। এমনকি ভাঙ্গন আতংকে স্থানীয় জাফর আহমদ, বদরু, কুদ্দুস, সোয়াইব, করিম, খলিল ও আজিজ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় রয়েছে।
এদিকে, কলাউজান দারুচ্ছুন্না আলিম মাদ্রাসা ও পূর্ব কলাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন গ্রামের আবদুল আলিম, আবদুস ছফুর, আইয়ুব, মফিজ, এরশাদ, আবদুল আজিজের বসতবাড়ি টংকাবতী খালের ভাঙ্গনের সম্মুখীন বলে বসবাসকারীরা জানিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান এম. এ. ওয়াহেদ আরো জানান, ইউনিয়নের কানুরাম বাজারের উত্তর পার্শ্বে ডিসি সড়ক রক্ষার্থে ১৯৯৬ – ২০০০ সালে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড টংকাবতী খালের ভাঙ্গন রোধে বøক পাথর স্থাপন করেছিল।
কিন্তু বর্তমানে বøক স্থাপনকৃত জায়গার পাশে নতুনভাবে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোন মুহূর্তে সড়ক বিধ্বস্ত হওয়ার আশংকা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, টংকাবতী খালের অব্যাহত ভাঙ্গন রোধে বসতবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।