ঝুঁকিতে মেয়াদোত্তীর্ণ কালুরঘাট সেতু বিকল্প পথে যান চলাচলের উদ্যোগ জরুরি

56

পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনামলে যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বর্ণযুগ রচিত হয়েছিল। এ রেলের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যে কয়টি দীর্ঘ রেলসেতু নির্মাণ হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেলসেতু এদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৩০ সালে শুধু রেল যোগাযোগের জন্য কালুরঘাট সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৬২ সালে ৬৩৮ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতু সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। রেলওয়ের অন্যতম পুরনো এ সেতু দিয়ে অর্ধশতকেরও অধিক সময় ধরে ট্রেনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচল করছে। গত এক দশকে কয়েক দফা মেরামত করা হলেও সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতি বছরই এ সেতুতে দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এরপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও হয়েছে। স্থানীয় মানুষের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পুরনো এ সেতু ভেঙে নতুন একটি রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ১৫ বছর আগে নতুন এ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হলেও স¤প্রতি সরকার কালুরঘাট সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) এ সেতু নির্মাণে অর্থ দেবে। এ জন্য বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ সহায়তা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ১১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট বোয়ালখালী অংশে রেললাইন কাম সড়কসেতু নির্মাণ করা হবে। আগামী বছরের ফেব্রæয়ারি-মার্চের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে ডক ইয়ার্ডে নির্মাণাধিন একটি জাহাজ হঠাৎ ভেসে এস সেতুতে আঘাত হানে। এতে সেতুর ৫নং পিলারের স্প্যান কিছুটা সেরে যায়। ফলে ঝুঁকিতে থাকা কালুরঘাট সেতু আরো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ল। শুধু তাই নয়, ৮৭ বছরের পুরনো এ সেতুর বিভিন্ন অংশ মরিচিকা ধরেছে, অনেক জয়েন্ট নড়বড় হয়ে পড়েছে এমনকি সম্প্রতি বর্ষার অতি বৃষ্টিতে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেতুটি অনেকাংশে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন মেরামতের মধ্যদিয়ে সেতু দিয়ে রেল ও যানবাহন চললেও আমাদের ধারণা রেল ছাড়া অন্য কোন ভারি বাহন এ সেতু দিয়ে পারপার বন্ধ করে দেয়া জরুরি। সম্প্রতি যে ফাটল এ সেতুতে দেখা দিয়েছে এর চেয়ে আরো ভালো অবস্থায় অর্থাৎ আজ থেকে ২১ বছর আগে ১৯৯৭ সালে এ সেতু দিয়ে ১০ টনের অধিক যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। এখন বলা হচ্ছে রেল ৬০ কিলোমিটারের অধিক বেগে চলতে পারবে না। আমরা জানি সরকারর ইতোমধ্যে কালুরঘাট রেলসেতুটি পুনর্নিমাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে এটি অন্যতম। দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) এই সেতু নির্মাণে অর্থের জোগান দেবে। এ জন্য বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ সহায়তা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ১১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট বোয়ালখালী অংশে রেললাইন কাম সড়কসেতু নির্মাণ করা হবে। নতুন এ রেলসেতু নির্মাণ হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার এলাকার সাথে চট্টগ্রাম নগরীর যোগাযোগ আরো সহজ হবে। সর্বোপরি সরকার দোহাজারী-কক্সবাজার যে রেল লাইন নির্মাণ করতে যাচ্ছে, তাতে এ সেতুর প্রয়োজনীয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করি, অর্ধভঙ্গ এ সেতু দিয়ে এ এলাকার মানুষ জীবন-ঝুঁকি নিয়ে পার হলেও সেই অবস্থার শিগগিরই অবসান হবে। তবে এ ঝুঁকি যেন কোনভাবেই অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনায় পরিনত না হয় সেদিকে তীক্ষè নজর রাখতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। এ সেতু দিয়ে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে রেল ছাড়া বাকি যানবাহনের জন্য ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নিতে হবে।