‘জয় বাংলা’ অমর হোক

13

হাইকোর্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধিকার আন্দোলনের অমর শ্লোগান জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। এর জন্য সময় দেয়া হয়েছে ৩ মাস। আদালত ঘোষণা দেয় জয় বাংলা হবে বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় স্লোগান। সরকারকে সর্বক্ষেত্রে এটি মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়। সমস্ত সরকারি বেসরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে সকলের এ স্লোগান দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ নির্দেশ মেনে চলতে হবে। রায় বাস্তবায়নে সরকারকে পদক্ষেপ নিয়ে তা আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছে ‘জয় বাংলা’ জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় স্লোগান। তিনি ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।
আবেদনকারি সংবিধানের ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ধারাবাহিকতায় জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করার দাবি জানান। আদালতে এটর্নি জেনারেলও এ দাবির পক্ষে তার মূল্যবান অভিমত দেন।
‘জয় বাংলা’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও অধিকার আদায়ের দীপ্ত স্লোগান। রণাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করার অপ্রতিদ্ব›দ্বী প্রেরণাদায়ক স্লোগান। এই স্লোগান মুক্তিযোদ্ধাদের মাতৃভূমির টানে যুদ্ধ করা ও শহীদ হবার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এ স্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুর মোকাবেলা করেছে। বিপ্লবে সংগ্রামে উজ্জীবিত হয়েছে। যখনই রণাঙ্গণে ক্লান্তি এসেছে সে মুহূর্তে ‘জয় বাংলা’ যোদ্ধাদের ক্লান্তি দূর করে সাহস জুগিয়েছে। তারা স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনেছে এ স্লোগান সাথে সাথে আকাশে অস্ত্র উঁচিয়ে নতুন প্রত্যয়ে। ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার মধ্যদিয়ে আমাদের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনগুলোকেই অম্লান করে দিল।
‘জয় বাংলা’ যতবার ধ্বনিত হবে ততবারই উজ্জীবিত হবে বাঙালি জাতি। অতীতের মত এ স্লোগান অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের ভবিষ্যতের পথ দেখাবে। একই সাথে অমরত্ব পাবে এ উজ্জীবনী স্লোগান। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধ এবং তার আনুষাঙ্গিকতা আমাদের আগামী প্রজন্ম যাতে ধরে রাখতে পারে সে ক্ষেত্রে আদালতের এ রায় অনন্য ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে। এর পাশাপাশি যারা এ স্লোগানকে আওয়ামী লীগের স্লোগান বলে নিন্দা করতো তারা আর নিন্দা ও সমালোচনার সুযোগ পাবে না। আদালতের এ ঐতিহাসিক রায়কে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের প্রত্যাশা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।