জয়া ও আপু

শান্তিময় দাশ

66

আপনি তো আগামীকাল লন্ডন চলে যাবেন শুধু তাই দেখা করতে এসেছি। দুই তিন দিনের কথায় বিয়ে হয় নাকি। বিয়ে করলে আপনি আমার জীবনসাথী হবেন। তাই আমার সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় লাগবে। বেস্ট অফ লাক, গুড বাই ফিরে আসলে দেখা হবে। সেদিন রেস্টুরেন্টে এই রকম কথাবার্তা চলছিল অপু এবং জয়ার মধ্যে। এর তিন দিন আগে অপুর সাথে জয়ার বিয়ে হওয়ার জন্য পারিবারিকভাবে তাদের দেখা হয়। সেদিন কথাবার্তাগুলো তাদের ভালোই হয়েছিল। অপু জয়াকে পছন্দ হয়েছিল। অপু মনে করেছিল জয়া ও অপুকে পছন্দ করেছে। কিন্তু আজকে জয়ার কথা শুনে অপুর সব পরিকল্পনা উলটপালট হয়ে গেল। জয়া সুন্দর, শিক্ষিত, ধামির্ক একটি মেয়ে ভালো গান- আবৃত্তি জানে। অপু সুদর্শন এবং ভদ্র ছেলে। অনেকদিন ধরে অপুর জন্য মেয়ে দেখতেছে কোন মতেই তার পছন্দ হচ্ছে না। আজ জয়াকে অপুর পছন্দ হয়েছে। কিন্তু অপুর প্রতি জয়ার অনাগ্রহ দেখে মনটা একটু ভারী হয়ে উঠেছে। অপু এক সপ্তাহের জন্য একটি সেমিনারে যোগদান করতে বিদেশে চলে গেছে। অপুর সাথে জয়ার সকল যোগাযোগ বন্ধ। অপু ভাবছে জয়া কল করবে আর জয়া ভাবছে অপু যদি এতই তাকে পছন্দ করে থাকে, তাহলে তাকে কল করবে। অপু বিদেশ থেকে চলে আসার আগের দিন জয়া একটা মোবাইল মেসেজ দেয় এবং মেসেজ লিখে আমি আপনাকে পছন্দ করি তাই আপনাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত। অপু তখন তা কোন গুরুত্বই দিল না। একপর্যায়ে জয়া বলে আমি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা বাবা-মাকে জানিয়ে দিয়েছি। এখন আপনার মতামত কি? অপু বলে আমার একটু সময় লাগবে। আগামীকাল দুটি মেয়ে দেখার কথা আছে। মা-বাবা তাদের সাথে নাকি এক ধরনের কথাবার্তা বলেছে। তাই এখন আমি কিছু বলতে পারছি না। জয়া এই কথা শোনার পর কল কেটে দিল। জয়া চিন্তা করছে তার কারণেই এখন অপুর সাথে তার বিয়ে হচ্ছে না এদিকে তার মা-বাবাও তার দোষ দিচ্ছে।
জয়া একদিন তার বান্ধবীদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে বসেছে। এর একটু পিছনে অপুও তার বন্ধু বসেছে। কেউ কাউকে দেখেনি। জয়া তার বান্ধবীদের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সব বলছে। হঠাৎ তখন অপুর মনোযোগ চলে গেল সেই দিকে। এক পর্যায়ে জয়া তার বান্ধবীদের বলছে আমি আসলে এত কিছু ভাবিনি। আমি শুধুমাত্র বুঝতে চেয়েছিলাম অপু ছেলেটা কেমন, কি চাকরি করে, কাদের সাথে মিশে ইত্যাদি। সবকিছু এখন ভাল পেলাম কিন্তু অপুকেতো মনে হয় পেলাম না। বান্ধবীরা জয়াকে সান্ত¡না দিচ্ছে। জয়াকে একটু ধৈর্য্য ধরতে বলছে রেস্টুরেন্টে এই কথাগুলো শোনে অপু সত্যি সব বুঝতে পারল।
পরদিন অপুর বাবা অপুকে বলে, অপু জয়াকে তোর কেমন লেগেছে? বাবা আমার কোন আপত্তি নেই। অপুর বাবা তখন বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করার জন্য এই বার জয়ার বাবাকে ফোন দেয় যখন অপুর বাবা জয়ার বাবার সাথে কথা বলে জয়া সব শোনে। জয়া তাদের কথাগুলো সব শোনার পর অপুকে কল দেয়। জয়া মনে করেছে অপু জয়াকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এই সব করেছে। কিন্তু যখন অপু বলে আমি বাবাকে বলেছি বিয়ের দিন তারিখটা ঠিক করতে সুইটির বাবাকে কল করে । বাবা বোধ হয় ভুল করে আপনার বাবাকে কল দিয়ে ফেলেছে। আচ্ছা, আপনি কি সত্যি আমাকে পছন্দ করেন না! নাকি আমি সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছি তাই এর প্রতিশোধ নিচ্ছেন। আমি প্রথম যেদিন আপনাকে দেখেছি সেদিন ঐ ভালোবেসে ফেলেছি। আমি কাউকে কোন দিন ভালোবাসিনি। আগামীকাল বিকালে একটু কি মন্দিরে আসার সময় হবে? কেন? আমার সকল ব্যবহারের জন্য আপনার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিব তাই!
আচ্ছা ঠিক আছে, ক্ষমা চাইতে হবে না। আপনি যেহেতু এত্তকরে বলছেন, অফিস শেষ করে বিকাল পাঁচটায় আসব। আমার একটা রিকোয়েস্ট আছে, কি? আগামীকাল আপনি অবশ্যই শাড়ি পরে আসবেন। কেন? আপনাকে শাড়ি পরে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। আচ্ছা, শাড়ি পরে আসব। আপনি তো আর আমাকে শাড়ি পরে দেখতে পারবেন না। আর আপনার তো কিছুদিন পর বিয়েই হয়েই যাচ্ছে। আমারও কপালে বিয়ে থাকলে কোন ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যাবে। আর তাই দুজনের দেখা না হতে পারে। তাই আগামীকাল শেষ দেখা। আর আপনার কথা মতশাড়ি পরে আসব।
অপু তাড়াতাড়ি অফিস শেষ করে মন্দিরে গিয়ে বসে আছে। তখনও জয়া আসেনি। এদিকে অপুর বাবা-মা এবং জয়ার বাবা-মা মন্দিরে বসে আছে। জয়া যখন গাড়ি থেকে মন্দিরের গেটে নামে তখন অপু ফুল দিয়ে জয়াকে স্বাগত জানায়। জয়া বলে, আমাদের তো মন্দিরের ভেতরে দেখা করার কথা ছিল কিন্তু আপনি কি আমার সাথে বাইরে থেকে দেখা করে চলে যাবেন! আসলে মন্দিরে অনেকজন আছে তাই! সেখানে আপনাকে এইভাবে দেখতে পারবনাতো তাই বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মন্দিরে অনেকজন তো থাকবে তা তো প্রতিদিনই থাকে। এইটা কোন সমস্যা না, যাক, আমরা মন্দিরের ভিতরে চলেন আপনাকে মন্দিরের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। বিয়ের পর যাতে আপনার জীবনসঙ্গীকে নিয়ে আসতে পারেন। এই বলে জয়া অপুকে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করল। জয়া আমরা, তোর শ্বশুর শাশুড়ি সবাই তোর জন্য কখন থেকে অপেক্ষা করছি। এত দেরি হয়েছে কেন? মা তখন এই কথাগুলো জয়াকে বলছে। জয়া এই কথাগুলো শুনে বিস্মিত হয়ে গেল। জয়া তখন ঠিক সামনে যাবে, নাকি পিছনে যাবে কি করবে তা বুঝতে পারছিল না। জয়া যখন পিছন ফিরে তাকায় তখন অপু বলে, সব ঠিক আছে, এখন শুভ কাজটা হয়ে যাক; এর জন্য আর আপনাকে সময় দেওয়া যাবে না।