রোহিঙ্গাদের এনআইডি

জড়িতদের গ্রেপ্তারে ইসির অনুমতির অপেক্ষায় পুলিশ

4

রোহিঙ্গাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দিতে ও প্রাথমিক তদন্তে জড়িত হিসেবে নাম আসা কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে নির্বাচন কমিশনের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত অন্তত ৩০ জন কর্মকর্তা, কর্মচারিকে গ্রেপ্তারের অনুমতি চেয়ে গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) থেকে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সিটিটিসির পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া জানান, জবানবন্দিতে কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ অনেকের নাম এসেছে। তাদের বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি। তাদের মধ্যে মাঠ পর্যায়ের বেশকিছু জড়িত ব্যক্তির তথ্যপ্রমাণও পেয়েছি। সব মিলিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের জন্য ‘সরকারি চাকরি বিধিমালা’ হিসেবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির জবাব পাওয়া গেলেই আমরা পরবর্তী পর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারব।
অগাস্টে এক রোহিঙ্গা নারী ভুয়া এনআইডি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট নিতে গিয়ে ধরা পড়ার পর জালিয়াত চক্রের খোঁজে নামে নির্বাচন কমিশন। আটকে দেয় রোহিঙ্গা সন্দেহে অর্ধশত এনআইডি বিতরণ।
এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন নামে একজনকে তার দুই সহযোগী ও এক ল্যাপটপসহ আটক করে পুলিশে দেয় কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ মামলার তদন্ত ভার যায় নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে। জয়নালের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট মোস্তফা ফারুক নামে নির্বাচন কমিশনের প্রকল্পের অধীনে কর্মরত এক টেকনিক্যাল সাপোর্ট কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
তাদের কাছ থেকে তদন্তকারীরা তথ্য পায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট পদে কর্মরত শাহনুর মিয়ার মাধ্যমে তারা রোহিঙ্গাদের এনআইডি করিয়ে দিতেন। শাহনূর দেশের বিভিন্ন উপজেলার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্ভারে প্রবেশ করতে পারেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এর দুইদিন আগে কোতোয়ালি থানার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. শাহীন, বন্দর থানার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. জাহিদ এবং ডবলমুরিং থানার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পাভেল বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের মধ্যে শাহীন শাহনূর মিয়ার স্ত্রীর বড় ভাই। গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে জয়নাল ছাড়া শাহনূর, মোস্তফা ফারুক, শাহীন, জাহিদ, পাভেল বড়ুয়া এনআইডি প্রকল্পের অধীনে কর্মরত আর দুইজন জয়নালের বন্ধু।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে জয়নাল, মোস্তফা ফারুক ও শাহনূর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাসহ, স্থায়ী, অস্থায়ী কর্মচারীসহ অন্তত ৩০ জনের নাম এসেছে বলে তদন্তকারীরা জানায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আগে জানিয়েছিল, এই কর্মচারীরা ২০১৪ সাল থেকে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ও এনআইডি দেওয়ার কাজ শুরু করে। ২০১৮ সাল থেকে তা আরো বেড়ে যায়।
পুলিশের তদেন্ত যাদের নাম এসেছে অতীতে তারা সবাই একসাথে মিলেমিশে কাজ করলেও টাকার ভাগ নিয়ে বছরখানেক আগে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে তাদের ‘ঐক্য’ ভেঙ্গে যায়। নিজেদের বিরোধে একে একে বেরিয়ে আসছে জালিয়াত চক্রের সাথে জড়িতদের নাম। এদের মধ্যে কর্মচারীদের পাশাপাশি অনেক কর্মকর্তার নামও জানা গেছে।