জ্ঞানের উজ্জীবনে বিতর্কের ভূমিকা আছে : অনুপম সেন

5

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (পিইউডিএস) মুজিববর্ষ উপলক্ষে বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘পৌনঃপুনিক’ প্রকাশ করেছে। ১৪ অক্টোবর বেলা ১২টায় নগরীর জিইসি মোড়স্থ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে পিইউডিএস এর উদ্যোগে ‘পৌনঃপুনিক’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজবিজ্ঞানী ও শিক্ষায় একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। তিনি ‘পৌনঃপুনিক’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন।
বক্তব্যে ড. অনুপম সেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ, বাঙালি ও বাংলা ভাষা নিয়ে সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিকে তার হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। সেজন্য বাংলা ভাষী বাঙালি জনগণ তাঁকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সে কারণে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সারা বাংলাদেশ জুড়ে অসংখ্য অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে।
ড. অনুপম সেন বিতর্ক সম্পর্কে ‘বিতর্কের ভিত্তি হলো যুক্তি’ মন্তব্য করে বলেন, একসময় সমাজ বিনির্মিত হয়েছে প্রথার উপর ভিত্তি করে। এখনও উপজাতীয় অনেক সমাজ প্রথার উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। কিন্তু যুক্তি বাদ দিয়ে বর্তমানে সমাজ ও রাষ্ট্র চলতে পারে না।
ড. সেন ‘জ্ঞানের উজ্জীবনে বিতর্কের বিশাল ভূমিকা রয়েছে’ উল্লেখ করে প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের রচিত গ্রন্থাবলী থেকে তর্ক ও গণতন্ত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য তুলে ধরেন, সক্রেটিস সম্পর্কেও অনেক তথ্য দেন। তিনি বলেন, গ্রীসেই একসময় বিতর্ক চর্চার মধ্য দিয়ে সত্যের অনুসন্ধান শুরু হয়; বিজ্ঞানের সত্য এবং সমাজবিজ্ঞানের সত্য দু’টোরই। এই সত্যকে অনুসন্ধান করা হয়েছে যুক্তির মাধ্যমে। প্লেটোর রচনাসমূহে এই বিতর্কের এক অসাধারণ প্রকাশ দেখা যায়। বর্তমান যুগেও বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টে বা সংসদসমূহে আমরা সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য যুক্তির প্রয়োগ দেখি। বিতর্ক মানুষের চিন্তাকে পরিচ্ছন্ন করে, বিকশিত করে। যুক্তি বা বিতর্ক নানাভাবে, নানারূপে, যেমন, লেখার মাধ্যমে সভ্যতাকে এগিয়ে নিচ্ছে।
পিইউডিএস-এর চীফ মডারেটর জুলিয়া পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর একেএম তফজল হক, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম, প্রকৌশল ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তৌফিক সাঈদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান টুটন চন্দ্র মল্লিক, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খান ও অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী।
প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম বলেন, আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে যে বিতর্ক দেখি, সেগুলো একাডেমিক এক্সারসাইজের মধ্যে পড়ে না। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তির মাধ্যমে বিতর্ককে এগিয়ে নিলেই একাডেমিক এক্সারসাইজে তার প্রতিফলন ঘটে।
পিইউডিএস-এর মডারেটর সাইফুদ্দিন মুন্নার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন মডারেটর সঞ্জয় বিশ্বাস, হিল্লোল সাহা, মিনহাজ হোসাইন, নিলুফার সুলতানা, ফারিয়া হোসেন বর্ষা, নুসরাত শারমিন ও পিইউডিএস কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মার্সেল অনিক হালদার। বিজ্ঞপ্তি