নতুন সড়ক পরিবহন আইন

‘জেল-জরিমানার’ ভয়ে বিআরটিএতে চালকদের উপচেপড়া ভিড়

মনিরুল ইসলাম মুন্না

27

নতুন সড়ক আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশব্যাপী চলছে এ আইনের প্রচার-প্রচারণা। সেইসাথে চট্টগ্রামেও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) এবং জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। নতুন আইন আগের আইনের তুলনায় কড়াকড়ি হওয়ার কারণে মালিক-চালকরা বসে নেই। কাগজপত্র হালনাগাদ এবং নবায়ন করতে ভিড় জমাচ্ছেন বিআরটিএ কার্যালয়ে। গতকাল বুধবার বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা, মেট্রো এবং বিভাগীয় কার্যালয়ে গেলে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
জানা যায়, নতুন আইন ঘোষণর পর থেকেই তারা নিজ নিজ যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল নম্বরপ্লেট, ফিটনেস যাচাই নিশ্চিত করতে ছুটে এসেছেন বিআরটিএ’র কার্যালয়ে। নতুন সড়ক আইনে কঠোর শাস্তি আর জরিমানার ভয়ে বিআরটিএ’তে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চালকরা।
ট্রাকচালক মফিজুল ইসলাম বলেন, গাড়ির কাগজপত্র সব ঠিকঠাক রয়েছে। তবুও কোনো অসংগতি আছে কি না তা যাচাই করতে আসলাম। জানি না কোন আইনে আবার আটকা পড়তে হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নিশ্চিন্তে গাড়ি চালাতে পারবো।
বাসচালক কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের সবকিছু ঠিক থাকার পরেও অনেক সময় কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ এসে মামলা দিয়ে যায়। আর পুলিশেরও অতিরিক্ত মামলা দেয়ার প্রতিযোগিতামূলক যে মানসিকতা রয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুবা চালক-মালিকরা নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় চাপ পড়েছে চট্টগ্রামের বিআরটিএ কার্যালয়ে। গাড়ির ডিজিটাল নম্বরপ্লেট, ফিটনেস সনদ ও লাইসেন্স সংগ্রহ করতে বিআরটিএতে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন যানবাহনের মালিক-চালকরা। বাড়তি এ চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিআরটিএ’র তথ্য মতে, গত দুই কার্য দিবসে ১৩৫৮টি যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ নভেম্বর দেওয়া হয়েছে ৬৯৭টি ও ৪ নভেম্বর দেওয়া হয়েছে ৬৬১টি। নতুন আইন কার্যকরের পূর্বের দুই কার্য দিবসে এ সংখ্যা ছিল ৮৮১টি।
যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের আবেদনের চাপ ছিল আরো বেশি। গত দুই কার্য দিবসে শুধুমাত্র মেট্রো এলাকায় আবেদন পড়েছে ৩৩৩টি। যা আইন কার্যকরের পূর্বের দুই কার্যদিবসের প্রায় তিনগুণ। আইন কার্যকরের পূর্বের দুই কার্যদিবসে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১২৯টি।
আইন কার্যকরের পর রেজিস্ট্রেশনের জন্য সব থেকে বেশি আবেদন পড়েছে মোটরসাইকেলের। ৩৩৩টি আবেদনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২৯৫টি। বাকি আবেদনের মধ্যে এম্ব্যুলেন্স ২টি, বাস ৩টি, ডেলিভারি ভ্যান ১টি, জিপ ৩টি, মাইক্রোবাস ১টি, প্রাইভেট কার ১৯টি, পিকআপ ১টি, ট্রাক ১টি ও অন্যান্য ৬টি যানবাহনের।
তবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা (অষ্টম শ্রেণি পাস) বাধ্যতামূলক করায় আবেদন কম পড়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম বলেন, ৩ নভেম্বর মেট্রো থেকে লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছে ১১৭টি ও জেলা থেকে ৪৫টি। ৪ নভেম্বর মেট্রো থেকে লাইসেন্সের আবেদন পড়েছে ৯৪টি ও জেলা থেকে ২১৫টি। সব মিলিয়ে গত দুই কার্যদিবসে লাইসেন্সের জন্য আবেদন পড়েছে ৪৭১টি যা পূর্বে ছিল ৭ শ’রও বেশি।
তিনি আরও বলেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বেই চালক-মালিকরা সচেতন হচ্ছে দেখে খুব ভাল লাগছে। এতদিন পুরানো অধ্যাদেশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করার কারণে অল্প টাকা জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যেতো। কিন্তু এখন থেকে সেটির সুযোগ রাখেনি সরকার। আশা করি সব গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করলে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে না তেমনি জনসাধারণেরও ভোগান্তি কমে আসবে ।