জুতো পাখি শইবিল

অর্ক রায় সেতু

29

মানুষ তার নিজেরদের অর্ধেকটা সময় কিংবা ভালোলাগা পৃথিবীর সুন্দরতম সব প্রজাতির মধ্যে ইনিয়ে বিনিয়ে দেখতে পায়। পশু পাখিদের অপূর্ব সব গঠন আকৃতি মানুষদের প্রাণীদের আরো কাছে নিয়ে যায়। আর সেই অবিনশ্বর সৌন্দর্যের জন্যে ছুটছে মানুষ অনন্তকাল ধরে। যেনও কৌতুহল আগুণের মতো জ্বলজ্বল করছে। ততই ছুটছে আরো বিচিত্র প্রাণীর কাছাকাছি। আকাশের রঙ বেরঙের পাখির ঝাক সৌখিন মানুষের ভালো লাগার একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালের সূর্য উঠতেই পোষা পাখিটির সাথে খুনসুটি না হলেই যেনো পুরো দিনটায় বৃথায় যায়।
আদরের পাখিটা দেখতে সুন্দর হয় তাহলে আর কোন কথায় নেই।
পাখিদের মধ্যে একটি অদ্ভুত পাখি হলো শইবিল। পাখি কিন্তু! চোখে আসা সব পাখিদের মতো না। আকারে অনেক বড় আর দৈহিক গঠন সাধারণ পাখিদের তুলনায় ভিন্ন হওয়ার কেউ হয়তো পাখিটিকে বাসাবাড়িতে রাখতে চাইবেনা। আর তাছাড়া এই পাখির বসবাসের যায়গা সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় পাখিটির জন্যে যে কোনো পরিবেশ খুব একটা উপযোগী হবেনা। পাখিগুলো বাচ্চা অবস্থা থেকে বড় হতে হতে ঠোঁঠ অনেকটা জুতোর মতো আকার নেয়। যার জন্যেই দেখতে অনেকটায় বিচিত্র দেখায়। ঠোঁটগুলো সাধারণ পাখিদের থেকে দেখতে আকারে অনেক বড় । এই সৃষ্টি পাখিটির নাম দিয়েছে মানুষের কাছে জুতো পাখি শইবিল। মূলত জুতো শাপিত বিল থেকে পাখিটির নাম দেওয়া হয়েছিলো। পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে পাখিটি দেখা যায় আর সেটাই তারা বসবাসের উপযুক্ত করে নিয়েছে। জাম্বিয়া সুদানের জলাভূমি অঞ্চলে বেশ কিছু শইবিল পাওয়া যায়। জল পাখিটির খুবই প্রিয়। জলের নিচে মুখ ডুবিয়ে শিকার ধরে মুহূর্তে আহার হিসেবে খেয়ে নেয়। ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা পাখিগুলোর মোটেও পছন্দ নয় খুব সহজে মানুষের সংস্পর্শেও আসতে চায়না এই পাখিরা। আফ্রিকার পরিচিত পাখির মধ্যে শইবিল একটি প্রজাতি। ওজনে চার থেকে সাত কেজি পর্যন্ত হয় এবং উচ্চতায় ১১০ থেকে ১৫২ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এই প্রজাতির নামকরণ করা হয় বি-রেক্স নামে।