তীব্র তাপদাহে নাকাল জনজীবন

জীবন-যাপনে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি

12

ষড়ঋতুর এ দেশে বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য দু’মাস গ্রীষ্মকাল। বৈশাখের শুরু থেকে সমগ্র দেশে সূর্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা কোন কোন স্থানে ৪০ ডিগ্রীর নিচে নেমে আসতে দেখা যাচ্ছে। তীব্র গরমে মাঠের কৃষক থেকে অন্তপুরের গৃহিণীকে পর্যন্ত তাপদাহের দুর্ভোগে সময় পার করতে হচ্ছে। গ্রীষ্মের তাপদাহ ও প্রকৃতির উষ্ণতা এদেশে আবহমান কাল থেকেই চলে আসছে। বাংলা নববর্ষের শুরু থেকে সমগ্র দেশে গ্রীষ্মের প্রকোপ দুঃসহ হয়ে পড়েছে। মৌসুমের প্রথমে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে প্রকৃতির মধ্যে যে বিরূপ প্রক্রিয়া লক্ষ করা গেছে তা ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর প্রকৃতির মধ্যে অনুক‚ল পরিবর্তন আশা করেছিল দেশের মানুষ। কিন্তু ভারতের উড়িষ্যায় প্রবল বেগে ‘ফণী’ আঘাত হানার পর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়ের তেমন তান্ডব চলেনি সত্য, প্রকৃতি শান্ত হয়নি একটুও। গরমে পশু পাখি পর্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কাক, শালিক, পায়রা, হাঁস-মুরগী পর্যন্ত দমবন্ধ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পানির সান্নিধ্য পেতে ছুটতে দেখা যাচ্ছে।
পাহাড়সহ গাছ-পালার পত্রপল্লব শুকিয়ে যাবার উপক্রম এখন। কোন কোন বাগানে পানির অভাবে গাছ পালা মরে যাচ্ছে। সারাদেশে ভয়াবহ খরা দেখা না গেলেও কোন কোন স্থানে খরার আলামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন দেশে খরার খবর এক প্রকার শুনা যায়নি বললেও অত্যুক্তি হবে না। কিন্তু এবারের গ্রীষ্মের তাপদাহ, অনাবৃষ্টির কারণে দেশে প্রচন্ড খরা দেখা দিতে পারে। শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাবার জন্য মানুষ শীতকাপড়ের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু গ্রীষ্মের গরম থেকে রক্ষা পাবার জন্য কৃত্রিম পাখার বাতাস পর্যন্ত পুরো মাত্রায় গরমের যন্ত্রণা সামাল দিতে পারে না। সূর্য যখন ভায়াবহ তাপ বিতরণ করে তখন দেখা যায় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা জনগণের অনুক‚লে থাকছে না। আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিপাটি নয়। বিদেশে পাঁচ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট না ঘটলেও আমাদের দেশে কোন সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ভোগ করার ভাগ্য আমাদের হয় নি। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুবই নাজুক বিদ্যুৎ একবার চলে গেলে তিন ঘণ্টাও আসে না। নগরজীবনে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হয়তো কিছুটা ভালো তবে তাও পর্যাপ্ত নয়। সব মিলিয়ে দেশের মানুষ তীব্র তাপদাহে বর্তমানে খুবই দুর্ভোগে রয়েছে। গ্রীষ্মের পরে আসবে বর্ষা ঋতু। বর্ষা শুরু হতে আরো একমাস বাকী। এমতাবস্থায় প্রকৃতির এমন বিরূপ পরিবেশ থেকে রক্ষা পাবার জন্য পরম করুণাময়ের সাহায্য ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারছে না দেশের মানুষ।
প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণের জন্য দায়ী এ গ্রহের মানুষ। আমরা শিল্পায়ন করতে গিয়ে প্রকৃতি ধ্বংসে মেতে উঠেছি। যার ফলে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়ে আমাদের জীবন যাত্রার উপর চড়াও হচ্ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় দেশের সর্বস্তরের মানুষ সচেতন হলে গ্রীষ্মে অতিরিক্ত তাপদাহ, বর্ষায় অতিবৃষ্টি, শীতে বরফ জমা শীত থেকে রক্ষা পেতে পারে দেশের মানুষ। এ জন্য সরকারও দেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে প্রয়োজনীয় বনাঞ্চল। আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা আমাদের সুপরিকল্পিত প্রকৃতি রক্ষার কর্মকান্ডের উপর নির্ভর শীল। আসুন সবাই প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে এসে জনজীবন রক্ষা করি। খরা ঝড়, বৃষ্টি, অতিরিক্ত তাপদাহ থেকে রক্ষা পাবার পূর্বশর্ত হলো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এগিয়ে আসা।