জীবনের প্রায় সব পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন তোরসা

7

৩৭ হাজারের বেশি প্রতিযোগী টপকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯’ হয়েছেন রাফাহ নানজীবা তোরসা। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে ঝলমলে আয়োজনে বিজয়ীর মুকুট উঠে তোরসার মাথায়। আগামি ১৪ ডিসেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তোরসা।


চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সবাই জানতে চাইছেন কে এই তোরসা? চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে উঠে আসে তোরসার পরিচয়। জানা যায়, তোরসা চট্টগ্রামের মেয়ে হলেও তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়াতে। তোরসার বাবার নাম শেখ মোর্শেদ, যিনি ছিলেন পেশায় চট্টগ্রাম কোর্টের আইনজীবী। তোরসার বাবা মারা গেছেন ২০১৪ সালে।
তার মায়ের নাম শারমিন মোর্শেদ এবং একমাত্র ছোট ভাই তুরাজ। বাবার পেশার খাতিরে তোরসার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের শিল্পকলা এলাকায়। শৈশব থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিচরণ হওয়ায় তোরসা হয়ে উঠেন ভীষণ মেধাবী এবং চৌকস। একেবারে ছোট বয়স থেকেই নাচ শিখে পেয়েছেন সাফল্য।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তোরসা বলেন, ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এ তিন বছরে যতগুলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি প্রায় সবখানেই প্রথম হয়েছি। না হলেও সম্মানজনক অবস্থানে থেকেছি।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে ‘লিটল মিস চিটাগাং’ প্রতিযোগিতায় প্রথম হই। ২০০৯ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর’ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে ফোক ডান্সে প্রথম হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করি। ওই বছর সমগ্র চট্টগ্রাম থেকে আমিই বিজয়ী হই।
তোরসার সাথে আলাপ করে জানা যায়, তিনি ২০১০ সালের ‘জাতীয় শিশু প্রতিযোগিতা’র চ্যাম্পিয়ন এবং ভারতনাট্যমে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। ওই বছরে এনটিভি’র আয়োজনে ‘মার্কস অলরাউন্ডার’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সপ্তাহ আয়োজনে ২০১৬ সালে প্রতিনিধিত্ব করেন। ওই বছর জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হন তোরসা।
শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তোরসা বিজয়ী হয়ে পুরস্কার অর্জন করেন। সেগুলো আলাপকালে বলে শেষ করতে পারছিলেন না তিনি।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী তোরসা নৃত্য, আবৃতি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, থিয়েটার, মডেলিং, মূকাভিনয়েও পারদর্শী। তিনি আবৃতি সংগঠন ‘নরেন’ এবং থিয়েটার সংগঠন ‘ফেইম’ এর সাথে যুক্ত। এছাড়া নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন সামাজিক সংগঠন লিও ক্লাব এবং রেডক্রিসেন্টের সদস্য হিসেবে। বিজয় টিভির শো’র সঞ্চালনাও করেছেন, পাশাপাশি রেডিওতে কাজ করেছেন। এছাড়া তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘হালদা’ ছবিতেও ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান তোরসা।
লেখাপড়াতেও মেধাবী তোরসা। চট্টগ্রাম ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ‘জিপিএ ফাইভ’ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তোরসা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আই আর) বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।
তোরসা বলেন, তিন বছর বয়স থেকে সাংস্কৃতিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করি। আমার পরিবার সংস্কৃতিমনা। সেই নানামুখী কর্মকান্ডে জড়িত বলে কলেজ ও ভার্সিটি ক্যাম্পাসে শুরু থেকেই আমি পরিচিত মুখ। আমার এগিয়ে চলায় যেসব বন্ধুরা সাপোর্ট করেছেন সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
এত অর্জনের পর নতুন করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়ে তোরসা বলেন, শীর্ষ ৩০-এ আসার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আমার জীবনে এতো অর্জনে সবকিছুতে অবদান মায়ের। তার সাপোর্ট ও সাহস না পেলে কিছুই করা সম্ভব হতো না। মা-ই আমার সবচেয়ে আপন বন্ধু। আমার এক ফুফুও আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। নতুন করে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরবো এর চেয়ে গর্বের আর কি হতে পারে!