পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন

জাফরপুত্র আরিফুলকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগের ৫ প্রার্থী!

ওয়াসিম আহমেদ

337

আর ১২ দিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন। গতকাল প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন ৬ কাউন্সিলর প্রার্থী। এই ওয়ার্ডের সদ্য প্রয়াত কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা একেএম জাফরুল ইসলামের ছেলে একেএম আরিফুল ইসলাম প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন বিএনপি থেকে। তাকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন পাঁচ প্রার্থী! তবে সবাইকে নিয়ে বসে আওয়ামী লীগ থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
তিনি পূর্বদেশকে বলেন, বিএনপি থেকে সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে আরিফুল নির্বাচন করছেন। তবে আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচ প্রার্থী হয়ে গেছে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময়ও শেষ। তবে আমরা সবার সাথে বসবো। তারপর আওয়ামী লীগ থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান মেয়র।
গত রমজানের ঈদের পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করে আসছিলেন। ব্যানার-পোস্টার আর কুশল বিনিময়ে মূখর হয়ে উঠেছিল এই ওয়ার্ডের অলি-গলি। তবে বিএনপি থেকে কোনো প্রার্থীর আওয়াজ না থাকায় আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়েছিল বেশি। শেষ সময়ে নিজের প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন আরিফুল ইসলাম। ফলে অনেকটা বেকায়দা পড়ে যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। প্রত্যাহারের সময় শেষ হলেও নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থীর সংখ্যা কমানো না গেলে আওয়ামী লীগের জয়লাভের সমীকরণ কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামি ২৫ জুলাই সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন মাঠে থাকা ৬ প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী। গতকাল সকালে প্রার্থীদেরকে লটারির মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ দেন চট্টগ্রাম জেলা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার ও রিটানিং অফিসার মো. হাসানুজ্জামান। ফলে আজ শনিবার থেকে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় নামবেন বলে জানা গেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এই উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী রয়ে গেছেন নির্বাচনী দৌড়ে।
জানা গেছে, ১২টি প্রতীক থেকে লটারির মাধ্যমে প্রার্থীদের ৬ টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী একেএম আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন মিষ্টি কুমড়া প্রতীক। এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদ শহিদুল আলম ঘুড়ি প্রতীক, মো. মাসুদ করিম টিটু রেডিও প্রতীক, মো. শফি লাটিম প্রতীক, শাহেদুল ইসলাম টিফিন ক্যারিয়ার এবং শেখ নায়েম উদ্দীন ঠেলাগাড়ি প্রতীক পেয়েছেন।
প্রতীক পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে শহিদুল আলম এই ওয়ার্ডে তিনবার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনীতিতে প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর অনুসারী হিসাবে পরিচিত শহিদ দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক হিসাবে। কোতোয়ালী-বাকলিয়া আসনের সাংসদ ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মাধ্যমে দলীয় সমর্থন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি। এছাড়া অন্য তিন প্রার্থী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসাবে পরিচিত। এরমধ্যে মাসুদ করিম টিটু চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের জিএস, ভিপি, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে শাহেদুল ইসলাম শাহেদ চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি, নগর যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. শফি এবং শেখ নায়েম উদ্দীন যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘদিন রোগে ভুগে গত ১৭ এপ্রিল পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একেএম জাফরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে গত ২৪ এপ্রিল কাউন্সিলর পদটি শূন্য ঘোষণাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে দাপ্তরিকপত্র দেয় চসিক। এরপর ১২ জুন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদটি শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। একই তারিখে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে পত্র দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ।
প্রসঙ্গত, সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯ এর ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন আগে মেয়র বা কোনো কাউন্সিলরের পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণ করতে হবে। উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি সিটি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য ওই পদে বহাল থাকবেন।