চউক কর্তৃপক্ষের আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু

জলাবদ্ধতা নিরসনে এর বিকল্প নেই

17

গত দুইমান আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগরীর বিলুপ্ত প্রায় খালগুলোকে উদ্ধার এবং কর্ণফুলির পরিবেশ ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে অবেধ উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছিল। পতেঙ্গা, বন্দর এলাকা ও চাকতাই-এর বেশকিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এসময় গণমাধ্যমের নজর কেড়েছিল প্রশাসন। ভুমি মন্ত্রী নিজেই এ উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসনের পাশে ছিলেন। বলা হয়েছিল কোন বাধাই মানা হবে না, উচ্ছেদ শেষ করেই ঘরে ফেরা হবে। কিন্তু যত গর্জে তত বর্ষেনা, সর্বশেষ তাই ঘটেছে। এবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে নগরীর প্রধান খালগুলোকে অবৈধ দখলদার থেকে মুক্ত করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট অভিযান পরিচালনা করে আসলেও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনা বাহিনীর সহযোগিতায় জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শুরু থেকে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে। অবশ্যই একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও তাদের অভিযান শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহে চট্টগ্রামের চাক্তাই খাল, কাতালগঞ্জ হিজড়া খাল, কল্পলোক আবাসিক এলাকাসংলগ্ন খাল ও পতেঙ্গার লালদিয়ারচর এলাকায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। চাক্তাই খাল, হিজড়া খালসহ বেশ কয়েকটি খালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং পতেঙ্গা লালদিয়ারচরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের বিরুদ্ধে। সূত্রগুলো জানায়, এসময় চাক্তাই খালের ওপর থেকে পাকা ভবনসহ ৩০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। হিজড়া খাল দখল করে গড়ে উঠা ফিনলে-এপিকের স্থাপনাসহ ৫৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অন্যদিকে, লালদিয়ারচরে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া ১৫ একর জায়গা উদ্ধার করে সেখানে আমদানি-রপ্তানি পণ্য ল্যান্ডিং, শিপমেন্ট ও হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পরিচালনার লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। এতে অবৈধভাবে তৈরি ১৩০টিরও বেশি পাকা ও আধা পাকা ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
সিডিএ সূত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়নের কাজ করছে সিডিএ।, চাক্তাই খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ক্রমান্বয়ে মহানগরীর ১৩টি খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই অভিযান চলবে আগামী দুই মাস।
উল্লেখ করা যেতে পারে, গত বছরের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার অনুমোদিত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সিডিএর একটি সমঝোতা-সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে অনুসারে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর খালের উভয় পাশে রিটেইনিং ওয়াল, সড়ক নির্মাণ ও নিচু ব্রিজগুলো ভেঙে উঁচু করার কাজ শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তারা খাল থেকে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজও শুরু করেছে। ডিপিপি অনুযায়ী এই মেগা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ২০১৮ সালে ৩৬টি খালের মাটি অপসারণসহ ৩০০ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া প্রকল্পের অধীনে নতুন করে ১০০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ২০২০ সালের মধ্যে নগরে ৩৬টি খাল খনন, খালের পাশে ১৭৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৮৫ কিলোমিটার সড়ক, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করার কথাও রয়েছে। আমরা মনে করি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে যে পথে এগুচ্ছে তা যথার্থই। এবার উচ্ছেদ অভিযান শেষ করেই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে-এমনটি প্রত্যাশা নগরবাসীর।