বদলে যাওয়া একটি বিদ্যালয়ের গল্প

জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কারের পর ক্লাসে ফিরলো কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

আবু তালেব

22

উপজলো সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার র্সব উত্তরের ১ নম্বর ফরহাদাবাদ ইউনয়িনের জনপদের নাম ‘মাহমুদাবাদ’। প্রায় তিন হাজার পরিবার সমৃদ্ধ ওই জনপদের অবস্থান ১ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে যুগ যুগ ধরে এলাকার জনসাধারণ সরকারি নানা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসলেও গ্রামের ৮ নং মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। দিনদিন কমছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা শুধুমাত্র ১৫৭জন। শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র প্রধান শিক্ষকসহ ৪জন।
প্রায় ৯০ বছর আগে ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত মাহমুদাবাদ গ্রামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সময়ের ব্যবধানে ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রথমবারের মত একটি পাকা দালান পেয়েছিল। তবে বিগত ২০১৫ সালে উক্ত ভবনটি জরাজীর্ণ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হয়। পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলার পর চার বছর আগেও নতুন দোতলা ভবন এবং বিদ্যালয়টি প্রাথমিক থেকে জুনিয়র বিদ্যালয় করার বার বার আশ্বাস দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তা এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
এরপর থেকে একটি পাকা এবং দুইটি অস্থায়ী শেড মত মোট তিনটি কক্ষ নিয়ে কোন রকমে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ নাছিমা আক্তারের নেতৃত্বে ৩ শিক্ষক। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই টিনের ফুটো চালা গড়িয়ে পানি পড়ে বিদ্যালয়ের অস্থায়ী শেডের শ্রেণিকক্ষে। ফলে দুইটি শ্রেণিকক্ষ সর্বদা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ত। সেই কাদায় শিক্ষার্থীরা কেউ কেউ পা পিছলে পড়ে আহতও হয়েছে বেশ কয়েকবার। এছাড়া কর্দমাক্ত শ্রেণিকক্ষ দুইটি বাদ দিলে পাঠদানের জন্য ও শিক্ষার্থীরা বসার উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ ছিল মাত্র একটি। বাকি দুইটা অস্থায়ী শেড ছিল জরাজীর্ণ, টিনের বেড়া, জায়গায়-জায়গায় ভাঙা, ভাঙা জানালাও। এরকম শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহনে আগ্রহ ছিল কম, ক্লাসে আসতে চাইতো না তারা। এমতাবস্থায় সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারে উক্ত কর্দমাক্ত শ্রেণিকক্ষের ছবি তুলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন’কে পাঠান একজন সচেতন শিক্ষক। মেসেজ পাওয়ার সাথে সাথে গত ১৮ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ইউএনও। এরপর ইউএনও’র তত্ত¡াবধানে দীর্ঘ ২০ দিন টানা চলতে থাকে শ্রেণিকক্ষ দুইটির সংস্কার কাজ। পরিপাটি, মানসম্মত এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী করে শ্রেণিকক্ষ দুইটি গড়ে তোলা হয়। কয়েকদিন আগে উক্ত বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দুইটি কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এমনটা নিশ্চিত করে ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষ দুটি বাচ্চাদের পাঠদানের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দুই লাখেরও বেশি টাকা ব্যয় করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসন এই ব্যয় বহন করে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উক্ত বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইউপি সদস্য মো. বেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ নাছিমা আক্তার ও মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কারের পর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছে। এখন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আগের চাইতে অনেক বেশি। তারা (শিক্ষার্থী) নতুন পরিপাটি এবং মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ পেয়ে মহাখুশি।