চসিক আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার

জনস্বার্থে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে

13

অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নাগরিক স্বার্থ সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়র করে যাচ্ছে। বিশেষ করে পূর্বসূরিদের ধারাবাহিক কর্মসূচি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে আরো উন্নত, সমৃদ্ধ ও জনমুখী করার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন অত্যন্ত আন্তরিক বলে আমাদের বিশ্বাস। চট্টগ্রাম দেশের বৃহত্তর বাণিজ্যিক নগরী। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে কিন্তু চট্টগ্রাম বরাবরই অবহেলিত। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় বন্দর নগরীতে বিগত দিনে কোন আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার ছিল না। অথচ দেশে আমদানি ও রফতানিকৃত অধিকাংশ খাদ্য এ বন্দর দিয়েই আসা-যাওয়া হচ্ছে। জানা যায়, বিদেশ থেকে আগত বা বিদেশে রফতানিকৃত সকল খাদ্য সামগ্রিসহ চট্টগ্রামে উৎপাদিত সকল খাদ্য ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমদানি-রফতানি বা বাজারজাতের অনুমতি মিলত। প্রক্রিয়াগত কারণে এতে নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যার প্রভাব পড়ত বাজারেও। চট্টগ্রামের অনেক দৃশ্যমান সংকটের চেয়ে আলোচিত বিষয়টিও কম নয়। যদিও এ নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কোন প্রতিক্রিয়া নেই। আমরা শুনে আশ্বস্থ হয়েছি যে, সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার নির্মাণ করেছে। তবে পরীক্ষাগারে জনবল নিয়োগ নিয়ে যে জটিলতা তা দ্রæত সমাধান না হলে নগরবাসী এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়। বৃহস্পতিবার দৈনিক পূর্বদেশে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ইউপিইএইচএসডিপি) আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ‘আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার’ বা ‘ফুড সেফটি ল্যাব’ নির্মাণ করেছে। নগরীর বিবিরহাটে স্থাপিত ৮ হাজার বর্গফুটের খাদ্য পরীক্ষাগারটিতে স্থাপন করা হয়েছে ৬টি আধুনিক ল্যাব। এরপর খাদ্যের ভেজাল শনাক্ত ও গুণাগুণ নির্ণয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ৮২টি যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ল্যাবটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল ল্যাবটিতে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছিল চসিক। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর ‘মান রক্ষা করা, প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন ও তার রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা’ এই তিন শর্তে পরীক্ষার অনুমোদন দেয়।
এরপর থেকে ল্যাবে সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শকদের মাধ্যমে সংগৃহীত খাদ্যপণ্য ও খাবার পানিসহ বিভিন্ন পানীয় পরীক্ষামূলক টেস্ট করা হচ্ছে। তবে কোন সাইনিং অথোরিটি না থাকায় টেস্টের পরবর্তী কোন পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। সূত্র জানায়, চসিকের পক্ষে ল্যাবটিতে নিয়োগে জনবল কাঠামোর একটি অর্গানোগ্রাম স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই অর্গানোগ্রামে পরিচালকসহ ২৩ পদে ৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদন চাওয়া হয়। জানা যায়, আগামী ১৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক আহবান করা হয়েছে। চসিক কর্তৃপক্ষ আশা করছে এবার অর্গানগ্রামটি অনুমোদন লাভ করলে খাদ্য পরীক্ষাগারটি পূর্ণতা লাভ করবে। খাদ্য পরীক্ষাগারটির সাথে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে পূর্বদেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় বর্তমানে খাদ্য পরীক্ষাগারটিতে প্রতি মাসেই বাজার থেকে সংগৃহীত ১৫টি খাদ্যপণ্যের পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেগুলোর রিপোর্ট ঢাকায় প্রেরণ করা হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের জনবল নিয়োগ না হওয়ায় টেস্টেই (পরীক্ষা) কাজ সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে। নগরীতে যতগুলো রেস্টুরেন্ট বা খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোকে সিটি কর্পোরেশন থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু কোন ল্যাব না থাকায় তাদের ফুড কোয়ালিটি যাচাই করার সিটি কর্পোরেশনের কোন সুযোগ নেই। ল্যাবটি কাজ শুরু করতে পারলে এবং সিটি কর্পোরেশন চাইলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের খাদ্য নমুনা ও মান পরীক্ষাপূর্বক লাইসেন্স দিতে পারবে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে অনেক খাদ্য রপ্তানি ও চট্টগ্রামে অনেক খাদ্য আমদানি হয়। সেগুলোর মানও যাচাই করতে পারবে ল্যাবটি। এতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি মোটা অংকের রাজস্ব অর্জন করতে পারবে সিটি কর্পোরেশন। চট্টগ্রামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাদ্য পরীক্ষাগারটি পরিপূর্ণভাবে চালু করতে জনবল সমস্যার সমাধান খুবই জরুরি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে অবগত না হওয়ার কোন কারণ আছে বলে আমাদের মনে হয় না।
আমরা আশা করি, সামনের মিটিং-এ পরীক্ষাগারটির জন্য প্রণিত অর্গানোগ্রামটি অনুমোদন দিয়ে নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আন্তরিকতা প্রদর্শন করবেন।