জনশক্তি রপ্তানি বাজার গতিশীল করার উদ্যোগ জরুরি

24

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের (রেমিট্যান্স) অন্যতম প্রধান খাত বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি। আর মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই জনশক্তি রপ্তানির প্রধান টার্গেট। তবে বেশ কয়েকবছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানির বাজার দিনদিন সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমান সরকারের কূটনেতিক তৎপরতায় গত বছর সৌদি আরবে শ্রমবাজার খুললেও তা তেমন গতি পায়নি। কিছু নারী শ্রমিক দেশটিতে গিয়ে বরং নানা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। তাদের প্রতি নির্যাতনের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখা যায়। অপরদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সরকার নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে আসছে, কিন্তু সাফল্য অধরা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, বায়রার নানা তৎপরতা ও প্রচেষ্টায়ও শ্রমবাজারের মন্দাভাব কাটছে না কিছুতেই। জানা যায়, কিছু অসাধু এজেন্সির সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দুর্নীতির কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে জিটুজি চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষ থাকায় দেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। আমরা মনে করি, এ অবস্থা বেশিদিন চলতে দেয়া যায়না, দ্রæত এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে আমাদের। সরকারি হিসাব মতে, প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি অভিবাসী বিশ্বের ১৬২টি দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, লেবানন, জর্ডান ও লিবিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি সীমাবদ্ধ। এর বাইরে অন্য দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা গেলেও তার হার অনেক কম। শ্রমবাজার স¤প্রসারণের চেষ্টার অংশ হিসেবে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, পশ্চিম ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, জাপান, ব্রাজিল, ইতালি ও সুইডেনে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের যথাযথ উদ্যোগ এবং সিন্ডিকেটের কবল থেকে বের হতে পারলে এসব দেশে শ্রমবাজারে সম্ভাবনার পথ সহজ হতে পারত। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জিটুজি প্লাস বাতিল করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম ক্ষেত্র হলো রেমিট্যান্স। জনশক্তি রপ্তানি এ ক্ষেত্রে বড় ভ‚মিকা পালন করছে। বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়াতে আমাদের শ্রম অভিবাসীরা কাজ করছেন। মালয়েশিয়া কর্মী প্রেরণে অবশ্যই আগের ভুলত্রুটি মোকাবেলা করে এই শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। সে ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সহনশীল ব্যয়ের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ করাটাই এখন বড় বিষয়। কথিত সিন্ডিকেট সমস্যা ও দুর্নীতি এখানে প্রকট। সন্দেহ নেই, এ দুটি অনিয়মের কারণে এ বিশাল শ্রম বাজার আমরা হারাতে বসেছি। কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে যাতে ভিসা ও যাতায়াত ব্যয় বেড়ে না যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাতে কেউ নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া শ্রমবাজার যাতে দ্রæত আবার উন্মুক্ত হয় এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভ‚মিকা বাংলাদেশ সরকারকেই পালন করতে হবে। কারণ অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিক তার অভিবাসন ব্যয়ের সমুদয় অর্থ বাংলাদেশেই প্রদান করে থাকে। এছাড়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফরে আছেন। আশা করা হচ্ছে, এ সফর দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রম বাজারের মন্দাভাব কেটে উঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।