নগরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি

জনভোগান্তি দূর করার উদ্যোগ নেয়া হোক

10

চট্টগ্রাম নগরজুড়ে সড়কে খোঁড়াখুঁড়িতে জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয় সংবাদপত্রসহ জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে বারবার আসছে। সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও দুর্ভোগ অবসানে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ফলে খোঁড়াখুঁড়িতে খানাখন্দকে পরিণত হওয়া এসব সড়ক পেরিয়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল যান চালকের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে, ঘটছে দুর্ঘটনাও। বিশেষ করে, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় এসব সড়ক মরণফাদে পরিণত হতে দেখা গিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বহদ্দার হাট-কালুরঘাট, বহদ্দার হাট শাহ আমানত সংযোগ সড়ক, পিসি রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও বিমান বন্দর সড়ক বিশেষভাবে বলা যায়। এই সড়কগুলোতে ওয়াসার নতুন পাইপ লাইন স্থাপন, সহ বড় অংশজুড়েই সড়ক সংস্কার ও উড়াল সড়কের কাজ চলায় গাড়ি চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। আর বৃষ্টি হলে অবস্থা আরো নাজুক; সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এ ছাড়াও নগরীর ছোট-বড় সবকটি সড়কে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে অভাবনীয় মাত্রায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। কাজেই যেসব সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ছোট-বড় সব গর্ত সৃষ্টি হয়েছে তা মেরামত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা ওয়াসা তাদের কাজ শেষে কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে গর্ত ভরাট করে চলে গেলেও তাতে পাথর ও বিটুমিন না দেয়ায় কয়েকটি যান চলাচলের পর বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়। শুধু ওয়াসা নয়, নগরীর অন্যান্য সেবামূলক সংস্থার উন্নয়ন কাজের অজুহাতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলতেই থাকে। সরকারের বার্ষিক বাজেট ঘোষণার কয়েক মাস আগে থেকে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। তারপর সেই রাস্তা যথাযথ মেরামতের জন্য আর কোনো সংস্থাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সা¤প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এলাকায় প্রবর্তক, ২নং গেট, চকবাজার, মোমিন রোড, আন্দরকিল্লা, নন্দনকানন এলাকায় সবচেয়ে বেশি রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। সিটি করপোরেশন ছাড়াও আরো কয়েকটি সংস্থাও এই মুহূর্তে চট্টগ্রামে উন্নয়ন কাজ করছে। এর মধ্যে ওয়াসা অন্যতম। চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গৃহীত প্রকল্পের অধীনে এই মুহূর্তে সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে। এই কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে। দ্রূততম সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশ্বস্ত করেছেন। সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া নগরীর সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী রাখা যে কঠিন এটিও বহুল আলোচিত। সামান্য বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতা, দুর্বল নির্মাণ ও সংস্কারকাজ, পরিকল্পনাহীন রাস্তার উন্নয়নকাজ ও সঠিকভাবে পরিদর্শনের অভাবে রাজধানীর অর্ধেকের বেশি রাস্তা ভাঙাচোরা হয়ে পড়ে আছে। যা প্রায় সারাবছরই নগরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । আমরা আশা করব, সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি টেকসই সড়ক নির্মাণে সিটি করপোরেশন উদ্যোগী হবে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরবাসীর ভোগান্তি প্রশমনে ত্বরিৎ বাস্তবোচিত পদক্ষেপ নেবে- এমনই প্রত্যাশা।