র‌্যাবের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

জঙ্গিবাদের মতো মাদকের বিরুদ্ধেও অভিযান চাই

পূর্বদেশ ডেস্ক

36

জঙ্গিবাদের মতো মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনায় র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সরকার প্রধানের কাছ থেকে এ নির্দেশ আসে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর থেকে (মাদক) যেন আমাদের ছেলে-মেয়েরা দূরে থাকে তার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে নিতে হবে। আমি র‌্যাবকে অনুরোধ করব জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেমন অভিযান চালিয়ে আমরা সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি, এখন মাদকের বিরুদ্ধেও এই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে’। এই অভিযানে বিশেষ ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই মাদকের বিরুদ্ধে বড় বড় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সফলতা অর্জন করেছে। সেজন্য ধন্যবাদ- আমি চাই এটা অব্যাহত থাকুক’।
তিনি বলেন, ‘মাদক কারা তৈরি করে, কারা বিক্রি করে, কারা পরিবহন করে এবং কারা সেবন করে সকলেই সমানভাবে দোষী- এটাই মাথায় রাখতে হবে এবং সেভাবেই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে যথেষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু মাদক এমনভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে যে আমাদের সমাজে একেকটা পরিবার, কোনো পরিবারে মাদকাসক্ত সন্তান থাকলে এর থেকে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না’। গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসহ সব বাহিনীর পক্ষ থেকেই ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি। একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রাখার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজের
শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম হলেও এই ধর্মের নাম করে কিছু মানুষকে বিভ্রান্তির পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কোমলমতি ছেলেরা, উচ্চশিক্ষিত, এমনকি যারা যথেষ্ঠ অর্থশালী, সম্পদশালী পরিবারের সদস্য তারাও এই বিভ্রান্তির বেড়াজালে পড়ে যায়। তাদের ভেতর একটা ধারণা জন্মে যায় যে, তারা মানুষ হত্যা করতে পারলেই নাকি একেবারে বেহেস্তে চলে যাবে। এই ধরণের বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের সম্ভাবনাময় অনেক মেধাবী সন্তানেরা বিপথে চলে যাচ্ছিল’।
এই বিপথগামীরা দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল তার বিরুদ্ধে র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জঙ্গি দমনে যে কাজগুলো র‌্যাব করেছে, সেটা আরো অব্যাহত রাখা দরকার। কারণ আমরা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি যে, বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। কোনোমতেই কোনো ধরণের জঙ্গিবাদকে আমরা প্রশ্রয় দেব না’।
তিনি বলেন, এজন্য গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী সংস্থা থেকে শুরু করে, সশস্ত্র বাহিনী, বর্ডার গার্ড, র‌্যাব সকলে সম্মিলিতভাবে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে যেন বাংলাদেশকে কখনো কেউ জঙ্গির দেশ, সন্ত্রাসের দেশ এই ধরণের অপপ্রচার না দিতে পারে।
জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে র‌্যাবের চালানো বিভিন্ন অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানেরও প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ভেজাল পণ্য, চোরাকারবারী, জাল মুদ্রা ও পাসপোর্ট প্রস্তুতকারী এবং অবৈধ ভিওআইপির কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের তথ্য তুলে ধরে এই ধারা অব্যাহত রাখতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
এক্ষেত্রে র‌্যাবের ভূমিকা মনে করিয়ে দিয়ে এই বাহিনীর বিভিন্ন সফলতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সন্ত্রাস, জঙ্গি ও চরমপন্থি দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে র‌্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বলে জানান তিনি। দেশের এই ‘এলিট ফোর্সকে’ আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে সমস্ত র‌্যাব সদস্যরা আত্মত্যাগ করেছেন তাদেরকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের স্থায়ী সদর দপ্তর কমপ্লেক্সের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাবের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ডেপুটেশনের মাধ্যমে এই বাহিনীতে পদায়ন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।