‘ছেলেধরা’ গুজব নিয়ে আতঙ্ক

রতন কান্তি দেবাশীষ

42

‘পদ্মা সেতু তৈরি করতে এক লাখ শিশুর মাথা লাগবে। কাজেই আপনার বাচ্চাকে ঘর থেকে বের হতে দিবেন না। স্কুল, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ কোথাও না। আর আপনি মুসলমান হলে মেসেজটি আরও ১০ জনের কাছে পাঠিয়ে দিন।’ এমন বিচিত্র কিছু ক্ষুদে বার্তা কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার লোকজনের মুঠোফোনে আসছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ‘ছেলেধরা’ গুজব।
পুলিশ বলছে, এটা নিছক গুজব ছাড়া আর কিছু নয়। একটি মহল ইচ্ছে করেই এধরনের গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষও এধরনের গুজবে কাউকে কান না দেয়ার অনুরোধ করেছে। ফটিকছড়িতে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গতকাল বুধবার এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। নগরী ও জেলার সর্বত্রই এধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামে কোনো এলাকায় অপরিচিত লোকজন দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন জনগণ। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই হামলে পড়ছে তার উপর। দিচ্ছে গণপিটুনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে এ গুজব নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। একটি চক্র গুজবটি ছড়িয়ে দিয়েছে।
ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, সীতাকুন্ড, মিরসরাই, চন্দননাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এ গুজব।
ছেলেধরা চক্র এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে মাথা কেটে ফেলা হচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সর্বত্র।
এধরনের গুজবে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে তা বেশি দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়গামী সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। অনেকে তাদের সন্তানদের স্কুলেও যেতে দিচ্ছেন না। বন্ধ হয়ে গেছে শিশুদের স্বাভাবিক চলাফেরাও।
বিভিন্ন উপজেলার ছেলে ধরা সন্দেহে কয়েকজন মানরসিক প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন এলাকায় গুজবে কান দেয়ার জন্য মাইকিংও করা হচ্ছে। সেইসাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে প্রচার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. এমরান ভূঁইয়া বলেন, এটি সম্পূর্ণ গুজব। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ গুজব ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুজবে কান না দেয়ার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ জানান।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানান, এটি নিছক গুজব। অতি উৎসাহী কিছু লোকজনের ছেলেধরা গুজবে কয়েকজন মানসিক প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুককে মারধরের ঘটনা দুঃখজনক।
ফটিকছড়ি থানার ওসি বাবুল আকতার বলেন, এটি সম্পূর্ণ গুজব। বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই এ খবরের। এধরনের গুজব ছড়ানো অন্যায়।
এদিকে শিশু অপহরণের গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ভূজপুরে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ভূজপুর থানার সুয়াবিল গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক আবু তৈয়ব মুহাম্মদ মুজিবুল হক সুয়াবিল গ্রামে নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবদুল্লাহ বলেন, আবু তৈয়বকে ফেসবুকের একটি গ্রæপে এ সংক্রান্ত গুজব ছড়ানোর প্রমাণ পাবার পর আটক করেছি। তার মোবাইলেও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন স্ক্রিনশট পেয়েছি। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।