আটক লেগুনা চালকের স্বীকারোক্তি

ছিনতাইকারীদের হাতেই খুন হন ডা. শাহ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

32

 

টনার চার দিনের মাথায় কুমিরায় ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত ডা. শাহ আলম হত্যা রহস্য উন্মোচন করেছে র‌্যাব। ছিনতাইকারীরাই তাকে খুন করে মুখমন্ডল বিকৃত করে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় তাকে খুন করা হয়। ঘটনায় জড়িত লেগুনা চালক ওমর ফারুককে (১৯) গ্রেপ্তারের পর হত্যারহস্য বেরিয়ে আসে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় সীতাকুন্ডের ছোট কুমিরা বাইপাস থেকে ডা. শাহ আলমের ভাগনে মো. ইজাব তাকে সেফ লাইনের আল মনসুর পরিবহনের একটি লেগুনাতে তুলে দেন। ইজাব ভেবেছিলেন অন্যদিনের মতো তার মামা চান্দগাঁওয়ের বাসায় পৌঁছে গেছেন। কিন্তু বাসায় না পৌঁছায় স্ত্রী-সন্তানরা ধরে নিয়েছিলেন ডা. শাহ আলম সীতাকুন্ডেই অবস্থান করছেন। এ সময় ডা. শাহ আলমের লাশ পড়েছিল সীতাকুন্ডের ঘাটঘর এলাকায়। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদে সীতাকুন্ড থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শুক্রবার রাতে লাশ শনাক্ত হওয়ার পর শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে স্ত্রী-সন্তানরা লাশ গ্রহণ করেন। পরে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক মসজিদ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
র‌্যাব জানায়, লেগুনা চালক ওমর ফারুককে (১৯) গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটায় নতুন রেল স্টেশন এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটককৃত ওমর ফারুক মহানগর হাকিম শিপলু কুমার দে’র আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাব-৭ এর চান্দগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের উপ-পরিচালক তারেক আজিজ জানান, ‘ডা. শাহ আলমের রক্তমাখা সেই লেগুনাটি উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ওমর ফারুক সেইফ লাইনের আল মনুসর পরিবহনের লেগুনাটির চালকের আসনে ছিল। হেল্পার ও যাত্রীর ছদ্মবেশে আগ থেকে দুইজন গাড়িতে ছিল। ডা. শাহ আলম ওঠার পর আরো দুইজন যাত্রীবেশে উঠে তাকে বলা হয় ‘যা কিছু আছে তা দিয়ে দিতে’। ডা. শাহ আলম দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তার মুখে আঘাত করে খুনিরা। গাড়িতেই ডা. শাহ আলম মারা যান। মুখে আঘাত করে বিকৃত করে ফেলে তারা। যাতে সহজে কেউ চিনতে না পারে। পরে শাহ আলমের লাশ রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে ফেলে দিয়ে খুনিরা গাড়িটি ওমর ফারুকের বাড়ি বাড়বকুন্ডে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে বালতি নিয়ে সাগরপাড়ে গিয়ে গাড়ি থেকে রক্ত ধুয়ে নেয়। কিন্তু পুরোপুরি রক্তের দাগ মুছতে পারেনি তারা। খুনে ব্যবহৃত ছুরিটিও পরিষ্কার করে নেয়।
এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাশকুর রহমান জানান, আটককৃত ওমর ফারুক খুনে জড়িত ৫ জনের নাম প্রকাশ করেছে। অতি দ্রুত আমরা তাদের আটক করবে পারবো।
উল্লেখ্য, নিহত ডা. শাহ আলম সীতাকুন্ড কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরার মরহুম মাস্টার আজিজুল হকের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) থেকে এমবিবিএস শেষ করে চমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল গনি শিকদারের মেয়ে অমরানা আজমিরি শিকদার কান্তার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। একজন বিবিএ প্রথম বর্ষে পড়ছেন, অপরজন দশম শ্রেণিতে। ডা. শাহ আলম দীর্ঘ ৩০ বছর সৌদি আরবের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছর ১৭ জানুয়ারি সীতাকুন্ডে নিজ গ্রামে শিশুদের জন্য ‘চাইল্ড কেয়ার’ নামে মানসম্পন্ন একটি ক্লিনিক চালু করেন।