ছাত্রলীগকে গৌরবের ইতিহাসে আবারও ফিরে আসতে হবে

6

বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আবারো সংবাদ শিরোনাম হল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কাÐারীর ভূমিকায় থাকা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তিক্ত বিরক্ত করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে মুখিয়ে ছিলেন সবাই। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রধানের ভূমিকায় যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তাঁকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। তিনি গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকে নানা অভিযোগের কারণে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। তাদের জায়গায় সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১০ মাস আগেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের পদ হারালেন। ছাত্রলীগের ৭১ বছরের ইতিহাসে মেয়াদপূর্তির আগে একসঙ্গে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ কিংবা অব্যাহতির ঘটনা এই প্রথম। বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাÐে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ দুই নেতার কারণে ঐতিহ্যের ছাত্রলীগ ও সরকার অস্বস্তিতে ছিল। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও সেবন, বিরোধী মতাদর্শীদের অর্থের বিনিময়ে অনুপ্রবেশ ঘটানো, স্বেচ্ছাচারিতা, ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন, দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ থেকে ৬ ভাগ চাঁদা দাবি, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অগ্রাহ্য করাসহ অসংখ্য অভিযোগ ছিল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রমাণও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ছাত্রলীগের কর্মকাÐে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গত শনিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তা বাস্তবায়ন হলো। বিষয়টি হতাশাজনক। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে যদি বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তার প্রভাব তৃণমূল পর্যায়েও পড়বে, এটা খুবই স্বাভাবিক। দেশের শীর্ষস্থানীয় ছাত্র সংগঠনের ক্ষমতার এমন অপব্যবহার আমাদের শঙ্কিত করে। নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্য। তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তবে সংগঠনটিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আগামীতে কেউ যেন কোনো রকম অনৈতিক কাজ করতে না পারে সেদিকে কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগকে ডুবানোর জন্য ছাত্রলীগ এবং মাঝে মধ্যে যুব লীগের কর্মকাÐই যথেষ্ট বলে মত দেন এ সংগঠনের সাবেক অনেক নেতা। মূল দলের মধ্যেও এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। সরকারের অনেক ইতিবাচক অর্জন ও সাফল্যকে ¤øান করে দিচ্ছে সহযোগী সংগঠনের দুষ্কর্ম। এটা ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা বোঝেন না তা নিশ্চয়ই নয়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলন, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামসহ দেশের সংকটকালীন যে কোনো সময়ে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবিস্মরণীয়। আমরা চাই দেশপ্রেম, আদর্শ-শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পথে চলুক ছাত্রলীগ। মুক্তিযুদ্ধের গৌরব বহনকারী সংগঠনটির গায়ে যেন আর কোনো দাগ না লাগে। তারা তাদের সেই ঐতিহ্য ও গৌরবকে জড়িয়ে এগিয়ে যাবে- এমন প্রত্যাশা আমাদের।