ছাত্ররা ‘সন্ত্রাসী দলের’ নিপীড়নের শিকার : খসরু

পূর্বদেশ ডেস্ক

14

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারি চাকরিতে আর কোটা না রাখার কথা বললেও তা বাস্তবায়নে ‘সময়ক্ষেপণের’ মাধ্যমে সরকার ‘প্রতারণা’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক প্রতিবাদী যুব সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে যখন গোটা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে তখন সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সমস্ত কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে দিলেন। যদি কেউ পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা তার দায়িত্ব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। যে ধরনের প্রতারণা চলছে, তাতে দেশের এই ছাত্রসমাজ শুধু মেধাহীন হচ্ছে তা নয়, তাতে মেধাবী বাংলাদেশ গড়ে না উঠে বঞ্চিত হচ্ছে। খবর বিডিনিউজের
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে একদল শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল সংসদে বলেন, কোটা পদ্ধতিই আর রাখা হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করলেও কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ফের বিক্ষোভে নেমেছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। কোন কোটা কত শতাংশ কমানো হবে- সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চায় তারা।
গত কয়েক দিনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম জাতীয় প্রেসক্লাবে এই প্রতিবাদী যুব সমাবেশের আয়োজন করে।
আমীর খসরু বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর ওই ‘নির্যাতনের জন্য’ আওয়ামী লীগকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসাবে পরিচিত করা উচিত। আমরা দেখেছি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যে ছাত্রসমাজে আ স ম আব্দুর রব বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছে, যে ছাত্রসমাজ এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছে, যে ছাত্রসমাজ এক-এগারোর সময় সামরিক শাসনের তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, সেই ছাত্রসমাজ আজকে একটি ‘সন্ত্রাসী দলের’ নিপীড়নের-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
এই বিএনপি নেতা বলেন, তাদের নির্যাতন-নিপীড়নে আজকে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ নীরবে কাঁদছে। যেভাবে সরকারি লোকেরা দিবালোকে ছাত্রদের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে- তা অবিশ্বাস্য। ছাত্রসমাজ আন্দোলন করছে একটি মেধাবী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে। কোটা সংস্কারের মাধ্যমে আগামীর মেধাবীরা বাংলাদেশ পরিচালনায় অংশ গ্রহণ করতে পারে।
বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উপদেষ্টা মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ইউকের সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন প্রতিবাদী যুব সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।