‘চোরের থাবায়’ চবিতে ভর্তির স্বপ্নভঙ্গ

জোবায়ের চৌধুরী, চবি

371

রনি চন্দ্র সরকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৭৯০তম হয়েছেন। অনলাইনে যথারীতি বিভাগ পছন্দ করে দর্শন বিভাগে ভর্তির জন্য মনোনীত হন তিনি।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’ ইউনিটের পুনঃ ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে রাতে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে মৌখিক সাক্ষাৎকার দিতে রনি রওনা হন চট্টগ্রামে। ভৈরবে ট্রেনের টয়লেটে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরে দেখেন ব্যাগ নিয়ে গেছে চোর। ব্যাগের সাথে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেটসহ ভর্তির যাবতীয় কাগজপত্র খোয়া যায় তার।
শনিবার চট্টগ্রামে এসে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি দেন তিনি। যাবতীয় কাগজপত্র না থাকায় বিজ্ঞাপনের কপি দিলেও রবিবার কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের শেষ দিনের মৌখিক সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে দেয়া হয়নি তাকে।
একইভাবে মাদারীপুর থেকে আসা রহমত উল্লাহর টাকা, সনদসহ যাবতীয় কাগজপত্র খোয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তার নিজ এলাকার একজন শিক্ষকের সুপারিশ নিয়ে দরখাস্ত দিলেও এতে কোন কাজ হয়নি। মেধাক্রমে ৯১৭তম হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির জন্য মনোনীত হওয়া এই শিক্ষার্থী সারাদিন ডিন অফিসের সামনে ঘুরলেও সব চেষ্টাই বিফল হয়। বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষার পর তার দরখাস্তটিও ফেরত দেয়া হয়।
রনি ও রহমত পূর্বদেশকে বলেন, ‘এটাতো একটা দুর্ঘটনা। এখন আমরা হুট করে কাগজপত্র বানিয়ে আনতে পারব না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমাদের মত আরো ৮-১০জনের দরখাস্ত ডিন অফিস ফিরিয়ে দিয়েছে। এটা মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।’
একই সমস্যার কারণে মৌখিক সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে না পারা ৫ শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এদের মধ্যে কারো যাবতীয় কাগজপত্র খোয়া গেছে। আবার কেউ কেউ ভুলবশত কোন একটি কাগজ আনতে পারেননি। গত ১৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’ ইউনিটের পুনঃ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ায় অনেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ফের বাড়ি যেতে পারেননি।
মো. তারিকুল হাছান নামে এক শিক্ষার্থী পূর্বদেশকে বলেন, ‘ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সোজা চট্টগ্রামে চলে এসেছি। ঢাবির পরীক্ষার আগে তাড়াহুড়োর কারণে শুধুমাত্র একটি মার্কশিটের মূল কপি আনতে পারিনি। আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া। সময়ও পাইনি যে, নদী পার হয়ে হাতিয়া গিয়ে মূল কাগজ আনবো। শুধুমাত্র একটি মার্কশিট না থাকায় মৌখিক সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।’
কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সমস্যা নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫জন এসেছেন। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকায় আরো কয়েকজন কাগজপত্র তুলতে পারেননি এমন কয়েকজনও এসেছেন। ডিন স্যারের সিদ্ধান্তে আমরা তাদের সকল কাগজপত্র ছাড়া সাক্ষাৎকার নিচ্ছি না।
এই অনুষদের ডিন ও ইউনিট সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘সকাল থেকে এরকম অনেকগুলো কেস পেয়েছি। আমি এত ঝামেলা নিতে পারব না।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে কর্মরত একজন অধ্যাপক বলেন, ‘ইউনিট সমন্বয়কারী হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব অনুষদের ডিনের। তিনি চাইলেই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। প্রশাসনের বেশ কয়েকজন বিষয়টির জন্য তাকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তিনি কারো অনুরোধ শুনেননি। যাদের এমন সমস্যা হয়েছে, তাদের কয়েক দিনের সময় বেঁধে দিয়ে একটা সুযোগ দেয়া যেত। যদি তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাবতীয় কাগজপত্র জমা না দিতে পারে, তবে নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম চলতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাগজপত্রের মূল কপি ছাড়া কাউকে ভর্তি না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদি নিয়ম পরিবর্তন করতে হয়, পর্ষদের সভায় তা করতে হবে। সকল ডিন যদি একমত হন, তবেই নিয়ম পরিবর্তন করা সম্ভব। ডিনদের নিয়ে জরুরি সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় কিনা, তা দেখা হবে।’