চীনে মৃতের সংখ্যা আর সংক্রমণে ‘ভয়ঙ্কর দিন’

একদিনেই ২৪২ জনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার

পূর্বদেশ ডেস্ক

27

নতুন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল চীনের হুবেই প্রদেশ দেখলো ভয়ঙ্কর এক দিন, এক দিনেই মত্যু হল রেকর্ড ২৪২ জনের। কেবল মত্যু নয়, রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পর বুধবার কেবল হুবেই প্রদেশেই ১৪ হাজার ৮৪০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। রয়টার্স লিখেছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিন প্রথমবারের মত নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এক দিনে এত মত্যু এবং এত নতুন সংক্রমণের তথ্য আর আসেনি। সব মিলিয়ে বুধবার চীনে মোট ২৫৪ জনের মত্যু হয়েছে। তাতে নতুন এ করোনাভাইরাসে মত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৯ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার। খবর বিডিনিউজের
গত কয়েক দিন হুবেই প্রদেশে নতুন রোগীর সংখ্যা কমতে থাকায় আশাবাদী হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন চীনা চিকিৎসকরা। চীনে নতুন করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জয় নানশান বলেছিলেন, এ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলতি মাসেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে এবং এপ্রিলের দিকে বিপদ পুরোপুরি কেটে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হয়ে আসছে- এমন কথা বলার সময় এখনও আসেনি। এখনও পরিস্থিতি যে কোনো দিকে যেতে পারে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক উপসর্গ হয় ফ্লু বা নিউমোনিয়ার মত। কিন্তু বয়স্ক এবং অন্য অসুস্থতা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ সংক্রামক রোগ হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এর কোনো প্রতিষেধকও মানুষের জানা নেই।
আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, সাধারণভাবে সেগুলো সারানোর জন্যই চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অবস্থা গুরুতর হলে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।
বিভিন্ন দেশে মানুষ থেকে মানুষে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর আসতে থাকায় গত ৩০ জানুয়ারি এ ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এ করোনাভাইরাসকে এতদিন নভেল বা নতুন করোনাভাইরাস বা সংক্ষেপে ২০১৯-এনসিওভি বলা হচ্ছিল। এ ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করছে তার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস ডিজিজ)।