চিরতরে নিভে গেলেন আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র স্টিফেন হকিং

62

ভাবনা যার মহাবিশ্বের সৃষ্টিরহস্যে নিবিষ্ট ছিল, সেই স্টিফেন হকিং পৃথিবী ছাড়লেন। চিরতরে নিভে গেলেন আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র। শারীরিক নিশ্চলতাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর আধুনিক প্রযুক্তির প্রেরণায় জয় করেছিলেন হকিং। বুধবার সকালে ৭৬ বছর বয়সে চিরতরে নীরব হলেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো পারিবারিক সূত্রে ব্রিটিশ এই পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীর জীবনাবসানের খবর দিয়েছে।

ব্রিটিশ এই বিজ্ঞানী কৃষ্ণ গহ্বর এবং আপেক্ষিকতা তত্ত্ব নিয়ে তার কাজের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিরল ধারার মোটর নিউরনের সঙ্গে লড়তে থাকা স্টিফেন হকিং হয়ে উঠেছিলেন তার কালের সবচেয়ে পরিচিত আর সম্মানিত বিজ্ঞানী। রসবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে হয়ে উঠেছিলেন বিজ্ঞানের জনপ্রিয় শুভেচ্ছাদূত। নিজের কাজের প্রতি সাধারণ মানুষ যেন সংলগ্ন বোধ করতে পারেন তার প্রতি সবসময় নজর রেখেছেন তিনি। হকিংয়ের সন্তান লুসি, রবার্ট ও টিম এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের প্রিয় বাবা আজ পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। একজন মহান বিজ্ঞানী ছিলেন তিনি। ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ।তার কাজ আর গ্রহণযোগ্যতা অটুট থাকবে বহু বছর।’ সাহস আর দৃঢ়তার পাশাপাশি তার মেধা আর রসবোধ বিশ্বজুড়ে মানুষকে প্রেরণা দিয়েছে।’

১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংলান্ডের অক্সফোর্ডে জন্ম হকিং-এর। ১৯৬৩ সালে আক্রান্ত হন দূরারোগ্য মোটর নিউরন রোগে। চিকিৎসকরা তার আয়ু বেধে দেন দুই বছর। তবে সেই ভবিষ্যৎবাণীকে অতিক্রম করে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় তিনি পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন পদার্থ ও গণিতে অসামান্য অবদান রাখার মধ্য দিয়ে। চলার শক্তি হারালেও কম্পিউটারের সাহায্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন তিনি।

  • তিনি ছিলেন রসবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ, বিজ্ঞানের একজন জনপ্রিয় দূত এবং তিনি সব সময় নিশ্চিত করতেন যেন তাঁর কাজ সাধারণ মানুষেরা সহজে বুঝতে পারেন।
  • তাঁর লেখা বই ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ অনেকটা ধারণার বাইরে বেস্ট সেলার বা সবচেয়ে বিক্রিত বইয়ে পরিণত হয়।
  • যদিও এটা পরিষ্কার না ঠিক কতজন পাঠক এই বইয়ের শেষ পর্যন্ত যেতে পেরেছেন।
  • জীবদ্দশায় তিনি বেশ কিছু টেলিভিশন প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং তার কৃত্রিম কণ্ঠস্বরে কথা বলেছেন।
  • স্টিভেন উইলিয়াম হকিং ১৯৪২ সালে ৮ই জানুয়ারি অক্সফোর্ডে জন্ম নেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন জীববিজ্ঞানের গবেষক এবং তিনি স্টিভেন হকিং-এর মাকে নিয়ে জার্মানের বোমার আঘাত থেকে বাঁচার জন্য লন্ডনে পালিয়ে আসেন।
  • হকিং লন্ডন এবং সেন্ট অ্যালবানস এ বেড়ে ওঠেন। তিনি অক্সফোর্ডে পদার্থবিদ্যার ওপর প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রী অর্জন করে ক্যামব্রিজে কসমোলজির উপর স্নাতকোত্তর গবেষণা করেন।
  • কেমব্রিজে গবেষণা করার সময় তাঁর মোটর নিউরন রোগ ধরা পরে যেটা তাকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেয়।
  • ১৯৬৪ সালে যখন তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী জেন কে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন চিকিৎসকরা বলে দেন তিনি বড় জোর দুই থেকে তিন বছর বাঁচবেন।
  • কিন্তু রোগটি যতটা দ্রুততার সাথে ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছিল তার চেয়ে কম গতিতে ছড়ায় তার শরীরে। ১৯৮৮ সালে তিনি তার বই ‘এ ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম’ প্রকাশ করেন।
  • বইটির প্রায় এক কোটি কপি বিক্রি হয়- যদিও লেখক জানতেন যে বইটির পরিচিতি হয়েছে “পঠিত হয়নি এমন সর্বাধিক বিক্রিত বই” হিসেবে।
  • তাদের তিন সন্তান আছে। ১৯৮৮ সালের মধ্যে হকিং এর অবস্থা এমন হল যে শুধুমাত্র কৃত্রিম উপায়ে কথা বলতে পারতেন তিনি।