চাহিদার তুলনায় যোগান অপ্রতুল টেস্ট নিয়ে ভোগান্তি বাড়ছে

7

করোনাভাইরাস শনাক্তে টেস্টের বিকল্প নেই। টেস্ট টেস্ট আর টেস্ট- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশের সকল পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের এ বিজ্ঞ পরামর্শ সবাই মাথাপেতে নিলেও আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ এখনও টেস্টের গতি লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে পারেনি। এখনও ১৩-১৪ হাজারের উপর টেস্ট করা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নমুনা সংগ্রহের সিরিয়ালের যেন কোন শেষ নেই। অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেক আটঘাট পুড়িয়ে নমুনা দেয়ার পর সেটার ফল পেতে পার হয়ে যাচ্ছে চার থেকে চৌদ্দ দিন। যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে অনেক মুমূর্ষু রোগীকে। অনেক রোগী করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেলেও কর্তৃপক্ষ তাদের চিকিৎসা করাচ্ছেনা বা হাসপাতালে ভর্তি নিচ্ছেনা। বলা হচ্ছে নমুনা পরীক্ষা করার জন্য। কিন্তু পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়া এবং ফল নিতে নিতে রোগীকে হয় চির বিদায় নিতে হচ্ছে, না হয় অসহায় জীবন নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। এ যেন ডাক্তার আসার আগে রোগী মারা যাওয়ার মত। এছাড়া আরো যে বিষয়টি উদ্বেগজনক তা হলো উপসর্গ নিয়ে টেস্ট করতে আসা রোগীরা নিঃসন্দেহে আসা-যাওয়ার পথে বা লাইনে উপসর্গ নেই এমন লোকদের সংস্পর্শে আসছে। এতে করোনা সংক্রমণ যে বাড়ছে-তা বলার কোন অবকাশ নেই। আমরা মনে করি, করোনা টেস্টের এ ধরণের অবস্থা চলতে থাকলে বর্তমান পরিস্থিতে আরো ভয়াবহ হতে পারে। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ দুরুহ হয়ে পড়বে। সম্প্রতি একটি বেসরকারী টেলিভিশনের প্রতিবেদনে করোনা টেস্টের কিটের সংকটের কথা তুলে ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আগামী দুই সপ্তাগ নাগাদ এ সংকট আরো বেড়ে যাবে। এ অবস্থা স্বাস্থ্য বিভাগ কিট সংগ্রহে কি প্রস্তুতি নিচ্ছে সেটা দেখার বিষয়। আশার কথা যে, সম্প্রতি চীনের একটি বিশেষজ্ঞ টিম বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। তারা দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশকে প্রতিশ্রæতি দিয়ে গেছেন চীনের পক্ষ থেকে আরো কিট পাঠানোর এবং ভ্যাকসিন তৈর হলে তা বাংলাদেশকে প্রথম সরবরাহ করার। এটি আমাদের জন্য বড় আশাবাদের। তবে আমরা মনে করি, কিট সংকট মোকাবেলা ও টেস্টের গতি বৃদ্ধি এবং স্বল্পসময়ে ফল নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের। দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা হতাশার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে টেস্টের ধীরগতি, সামনে কিট সংকটে পড়ার আশঙ্কা-এ হতাশা আরো বৃদ্ধি করবে। আমরা আশা করি স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের দায়িত্বের প্রতি আরো সজাগ হয়ে এ মহামারী মোকাবেলায় টেস্ট ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
এছাড়া আমাদের মনে রাখতেহবে, করোনাভাইরাসের নমুনা কিভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে, সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরীক্ষা করা হচ্ছে সেটার ওপর নির্ভর করবে ফলাফল কতোটা নির্ভুল আসবে। এই কাজের জন্য দক্ষ জনবলের দরকার। যে কাউকে দিয়ে এটা হবে না। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, বর্তমানে ৬১টি ল্যাবে প্রতিদিন ১৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া নমুনা সংগ্রহ করার জন্য ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৩৯টি বুথ বসানো হয়েছে।
মানুষের চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়। এ অবস্থায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এজন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা,মানসম্মত কিট বিতরণ, যথা সময়ে পিসিআর যন্ত্রগুলো মেরামত এবং কঠোর নজরদারি করতে হবে।