চাল নিয়ে চালবাজি ঠেকাতে হবে

14
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। প্রবাদ রয়েছে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। মাছের দাম চড়া হলেও বাঙালি অন্তত মাছ-ভাতের ব্যবস্থা করতে না পারলেও ডাল-ভাত খেয়ে দিন যাপন করতে পারে। কিন্তু দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ ভাতের জন্য চাল জোগাড় করতে না পারলে ডাল-ভাতেও সংকটের মুখোমুখি হবে। চালের দাম বাজেট পাশ হওয়ার আগে থেকেই যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানতে পারি সপ্তাহের ব্যবধানে যে হারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তার ফল খুব একটা শুভ নয়। ৭৪ এর যে দুর্ভিক্ষের কথা বলা হয় তাতে চালের দাম বৃদ্ধি ছিল প্রধান সমস্যা। হঠাৎ দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ চাল কিনে ভাত খেতে সামর্থ্য হয়নি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষিখাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি প্রদান করে দেশের কৃষি ব্যবস্থা ও চালের বাজার স্থিতিশীল রেখেছেন দেশের কৃষকরা ধানসহ কৃষিজাত ফসল ফলিয়ে থাকে। কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব যেমন সরকারের রয়েছে তেমনি দরিদ্র সাধারণ মানুষের চাল কিনে ডাল-ভাতের সুযোগ তৈরি করে দেয়াও সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমদানি শুল্ক রেয়াতি সুবিধা বাতিল এসআরও জারি কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সন্দেহ নেই। বাজেটে আমদানিতে শুল্ক রেয়াতি সুবিধা বাতিলের পূর্বেই চালের বাজারে প্রভাব পড়ার কথা নয়। প্রতি কেজি চালে ৪/৫ টাকা হতে বাড়তি মূল্য রাখার পেছনে গুদামজাতকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা যায় না। দেশে মানব কল্যাণে ব্যবসায়ী নেই বললেই চলে। এক শ্রেণির সুবিধাভোগীর হাতে দেশের ব্যবসা কান্ড জিম্মি। তারা দেশের স্থিতিশীল সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এ ধরনের করসাজি শুরু করেছে। দেশে খাদ্যের মজুদে সমস্যা নেই। কৃষকদের উৎপাদনে প্রণোদনা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু কৃষকরা সরকারি সুবিধা প্রাপ্তির পূর্বে তথাকথিত ব্যবসায়ীরা চাল নিয়ে নতুন করে যে চালবাজি শুরু করেছে তাতে সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ। ৫০ কেজির বস্তায় ২৫০ টাকা বৃদ্ধি দরিদ্র মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারের জন্য রীতিমতো দুর্ভোগের বিষয়। স্বল্প আয়ের মানুষ এমনিতে জীবনযাত্রায় হিমশিম খাচ্ছে, তার উপর হঠাৎ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মোটা অংকের লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ী ও গুদামজাতকারীদের অপতৎপরতা সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দেবে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে তারা সরকারের কৃষিক্ষেত্রের তাবৎ অর্জন ম্লান করে দেবে। আমরা চাই দেশের বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল অবস্থা থাকে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর হওয়া প্রয়োজন।