চার/পাঁচ টাকার মাস্কের জন্য জরিমানা স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অবহেলা কাম্য নয়

14

শীতের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে। কোভিড-১৯ টীকা সম্পর্কিত খবরাখবরে একথা প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের দরিদ্র জনসাধারণের পক্ষে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও টীকা দিয়ে করোনা সংক্রমণ রোধ সম্ভব নয়। যে কারণে হাত ধোঁয়া, মাস্ক পড়ার মতো সহজতর স্বাস্থ্যবিধি মানা কারো জন্য অসম্ভব নয়। সরকার মাস্ক পরা বাধ্যতা মূলক করেছে অপিস আদালতে। তাছাড়া সাধারণ জনগণকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার ও প্রশাসন। সরকারি এ নির্দেশনা মানছে না দেশের অধিকাংশ নর-নারী। শহর এলাকায় বাজারে, মার্কেটে, পথে-ঘাটে সাধারণ জনগণ মাস্ক পরতে দেখা গেলেও গ্রামে-গঞ্জে এ নিয়ে সচেতনতা এখনো তেমন বৃদ্ধি পায়নি। গ্রামে চায়ের দোকানে, হাট-বাজারে এখনো অধিকাংশ মানুষ মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে না। এর জন্য স্থানীয় সরকারের তেমন কোন ভূমিকা লক্ষ করা যাচ্ছে না। অপর দিকে উপজেলা সদর ও শহরের জনসমাগম ঘটে এমন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা ইচ্ছাকৃতভাবে মাস্ক পড়া হতে বিরতজনদের নানা অঙ্কের শাস্তি ও জরিমানা করতে দেখা যাচ্ছে। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ভ্রাম্যমাণ আদালক অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে মাস্ক না পড়ে ঘোরাঘুরি করার অপরাধে জরিমানা করেছে। সামর্থবান লোকজন মাত্র চার/পাঁচ টাকা মূল্যের মাস্ক ব্যবহার করতে পারে না এমন নয়, অবহেলা করে দেশের করোনা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে মাত্র। নিজের এবং অপরের নিরাপত্তার জন্য মাস্ক ব্যবহার করা সকলের উচিৎ। অন্য এক খবরে আমরা জেনেছি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচারনার সময় জরিমানার পাশাপাশি দরিদ্র জনসাধারণকে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহও করেছেন। আমাদের দেশে করোনা সম্পর্কে অজ্ঞতা বর্তমানে নেই বললেই চলে। যেভাবে দেশ-বিদেশের প্রচার মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা বিষয়ে সতর্কতা সূচক প্রচার দীর্ঘদিন হতে চলে আসছে তাতে কেউ করোনা মহামারী বিষয়ে না জানার কথা নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সরকারের দায়িত্বশীল ও উপজেলা প্রশাসন হতে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হয়েছে। তার পরও যারা হাত ধোঁয়া এবং মাস্ক পরা বিষয়ে অবহেলা করছে তাদের শায়েস্তা করার জন্য জরিমানা না করে প্রশাসনের অন্য কোন উপায় নেই। আমরা দেশের সকল এলাকার জনগণকে জনসমাগম হয় এমন স্থানে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ জানাই। নিজে বাঁচুন এবং অন্যকে বাঁচতে দিন। মাস্ক না পরে সামান্য অবেহলার জন্য নিজে করোনা আক্রান্ত হবেন না। তাছাড়া আপনার মধ্যে করোনা সংক্রমণ হলে মাস্ক না পরে অন্যজনকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ঠেলে দেবেন না।
আমরা মনে করি দেশের সকল নাগরিকের শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়া উচিৎ। জরিমানা করে মাস্ক পরতে বাধ্য করতে হবে কেন? আপনি নিজ দায়িত্বে সচেতন হয়ে মাস্ক পড়ুন। তাতে আপনার, অপরের এবং দেশের মঙ্গল।