চামড়া শিল্পের অনিশ্চয়তার অবসান জরুরি

9

আমাদের দেশে চামড়াশিল্প এবং চামড়া ব্যবসার একটা ঐতিহ্য রয়েছে। সে ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন শিল্প কারখানার কাঁচামাল সরবরাহ এবং বিদেশে চামড়া রপ্তানি করে অতীতে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আনয়ন করেছিলাম। এই কোটি কোটি টাকার আয়ের উৎস চামড়া শিল্পের দুরাবস্থা জাতির জন্য সুখবর নয়।
দেশে চামড়া শিল্পের সাথে জড়িত-ট্যানারি মালিক, আড়তদার, শ্রমিক, চামড়াজাত শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং দেশে দরিদ্র জনসাধারণ। দেশে যত চামড়া মজুদ করা হয়, তার শতকরা ৬০ ভাগ আসে কোরবানির ঈদে জবাইকৃত পশুর চামড়া হতে। বিগত বছর চামড়া নিয়ে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং আড়তদাররা বড় বিপাকে পড়তে দেখা গেছে। ট্যানারি মালিকরাও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। গত বছর কোরবানির চামড়ার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা এ বছর আর চামড়ার ব্যবসায় পা বাড়াচ্ছে না। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে গুদামজাত করার ব্যবসায় জড়িত আড়তদাররা হঠাৎ তাদের চামড়া ব্যবসাকে বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিকল্প ব্যবসা যারা শুরু করতে পারেনি তারা দূরবস্থায় ও ব্যবসাটি ছাড়তে পারেনি। কিন্তু তাদের অনেকে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় করতে না পেরে, সংকটের মধ্যে আছে। সামনে কোরবানির ঈদ। এ ঈদে চট্টগ্রামে প্রায় ৫ হাজার চামড়া সংগ্রহ হবে বলে বিশ্বাস করে আড়তদাররা। ইতোমধ্যে আড়তদাররা চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল এবং লবন সংগ্রহ করে রেখেছে বলে আমরা দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানতে পেরেছি। কিন্তু সরকারি ভাবে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতিবর্গফুট চামড়ার মূল্য ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কোরবানির পশুর চামড়ার টাকার দাবীদার দেশের অভাবি ও দরিদ্র, এতিম, মিশকিনরা। চামড়ার মূল্য গত বছরের চেয়ে এ বছর সরকারি ভাবে ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় চামড়ার পয়সা কোরবানি দাতারা যাদের কাছে বিলি করতো সে সব দরিদ্র মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে কোরবানির চামড়া সংগ্রহে।
চামড়ার ব্যবসা চামড়া আড়তজাত করণ, সর্বোপরি চামড়া শিল্প থেকে যে পরিমাণ দেশের অর্থনীতি উপকৃত হয় তা রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্যানারিগুলোকে বাঁচানোর স্বার্থে, চামড়ার ব্যবসা ও চামড়া শিল্পের সাথে জড়িত সর্বস্তরের মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চামড়ার ব্যবসা ও চামড়াজাত বাণিজ্যকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি ভাবে আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া সংগ্রহ করে, সংরক্ষণ এবং বাজারজাত করণে এগিয়ে আসতে হবে।
চামড়ার ব্যবসা এবং চামড়াশিল্পে ধস জাতির জন্য বড়ই ক্ষতিকর। আমরা চাই দেশের চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বাজারজাত করণে সরকার আন্তরিক হলে আমাদের চামড়া-বাণিজ্য তথা চামড়া শিল্প আবার ঘুরে দাড়াবে। সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি। বিশাল জনগোষ্ঠী চামড়ার ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। বিদেশে চামড়া রপ্তানি করে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা লাভ করতে পারবে। যারা এ চামড়ার ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনে ভূর্তুকি দিয়ে হলেও দেশের চামড়া সংশ্লিষ্টদের রক্ষায় সরকার ভূমিকা পালন করবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।