চামড়া নিয়ে অস্থিরতা রোধে সরকার ও টেনারী মালিককে উদ্যোগী হতে হবে

37

বেশ কয়েকবছরের ন্যায় এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে পশুর চামড়ার বিশাল বাজারকে কেন্দ্র করে এ অস্তিরতা। চট্টগ্রামে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার আতুরার ডিপু ও বায়েজিদ এলাকার অক্সিজেন-বটতলী এলাকায় পশুর চামড়ার স্থায়ী ট্যানারি ও আড়ত থাকলেও এখন বলতে গেলে ট্যানারি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে,তবে আড়তের কদর আগের মতই রয়েছে। কিন্তু এসব চামড়া একসময় রাজধানীর হাজারীবাগ ট্যানারিতে বিক্রয় হলেও সরকার পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে ঢাকার অদূরে সাভারে ট্যানারিশিল্প স্থানান্তর করে। এতে চামড়া ব্যবসায়ীদের আপত্তি থাকলেও পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে টেনারী স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, এ সুযোগে সুযোগ সন্ধানীদের নানা অপতৎপরতায় চামড়া পাচারসহ এ শিল্পকে ধ্বংস করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। ফলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে কুরবানি ঈদে চামড়া পাচারের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। এজন্য চামড়ার দাম কম নির্ধারণকে দায়ী করা হয়। এবার প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ট্যানারিশিল্পের প্রধান উপাদান কাঁচা চামড়ার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশই আসে এ সময়। হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ বন্ধ, অন্যদিকে অপ্রস্তুত সাভারের ট্যানারিপল্লী। ফলে পশুর চামড়া সংরক্ষণে অনিশ্চয়তায় পড়বেন ব্যবসায়ীরা। গত বছরও একই ধরনের সমস্যায় ভারতে পাচার হওয়ার পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়েছিল কুরবানির মৌসুমের প্রায় ২৫ শতাংশ চামড়া। তাই আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এবারো চামড়া পাচারের পাশাপাশি কাঁচা চামড়া নষ্টও হতে পারে। প্রতি বছর কোরবানির পর সারাদেশ থেকে সংগৃহীত কাঁচা চামড়া চট্টগ্রামের আতুরার ডিপু ও রাজধানী ঢাকার পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন আড়তে সংরক্ষণ করা হয়। এর দুয়েক দিন পর থেকে ট্যানারির মালিকরা এসব চামড়া কিনে নিজস্ব ট্যানারিতে নিয়ে সংরক্ষণ করেন। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে সুবিধামতো সময়ে পাকা করা হয়। কিন্তু পরিবেশ দূষণের কারণে হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার জন্য সাভারের ট্যানারিপল্লী প্রস্তুত নয়। দুই বছরের অধিক সময় পার হলেও বর্জ্য ফেলার বিষয়টি সুরাহা করতে পারেনি শিল্প মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার বা রিকভারি ইউনিট চালু হয়নি। রাস্তাঘাট সংস্কার কাজের অগ্রগতি সামান্যই। চামড়া সংরক্ষণে এই অনিশ্চয়তায় পাচার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন ও চাহিদা কমার অজুহাত তুলে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করছেন ট্যানারি মালিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের চামড়ার মান ভালো অথচ দাম অনেক কম থাকায় প্রতি বছরই ভারতে চামড়া পাচার হয়ে যায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিশিল্প চামড়া খাতটি ধ্বংসের দিকে যাবে।
চামড়া কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। পাশাপাশি সাভারে ঝুলে থাকা নতুন কারখানার নির্মাণকাজ দ্রæত শেষ করতে হবে। সরকারের উচিত যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করতে না পারার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। যেসব ট্যানারি মালিক নিয়ম অমান্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত। আমরা আশা করছি, সরকারের নিয়ম মেনে ট্যানারি মালিকরা সাভার ট্যানারিতে দ্রæত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে চামড়ার বাজারের যেকোন অস্তিরতা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।