চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন

18

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তা এখনো শেষ হয়নি। সত্তোর-আশি ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সিডিএ’র এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী। দীর্ঘ দিনের নানা জটিলতার বেড়াজালে নির্দ্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিগত জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা এখনো চলছে। কর্ণফুলী নদী থেকে ভোগ্যপণ্যবাহী নৌযান চাক্তাই এলাকার বিভিন্ন ঘাটে ভোগ্যপণ্য ওঠানামা করে থাকে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য দুইশ বছরেরও অধিক সময়ের পুরনো। এক সময় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ হতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্য সামগ্রী সরবরাহ হতো। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্র-বন্দরকে কেন্দ্র করে চাক্তাই ভোগ্যপণ্যের আড়ত হতে সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে নদীপথে পণ্য আনা-নোয়ার কাজ চলতো। বার্মা হতেও এখানে বিচিত্র ভোগ্যপণ্য নদীপথে আসোত। ভাটার মধ্যে চাক্তাই খাল শুকিয়ে গেলেও জোয়ারে নৌযান সমূহ ঘাটে ভীড়ে মালামাল উঠানামা করে থাকে। কর্ণফুলী হতে বেশ কয়টি পয়েন্টে নৌযান সমূহ চাক্তাইতে প্রবেশ করে এবং মাল নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়, চাক্তাই, আছদগঞ্জ, কোরবানিগঞ্জ, টেরিবাজার, বক্সিরহাট, মিয়াখান নগর, ফিরিঙিবাজার, সদরঘাট ও মাঝির ঘাটকে কেন্দ্র করে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িক পরিধি বেড়েছিল, সে সুবাধে চাক্তাই খাল দিয়ে নৌযানের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোগ্য-অভোগ্য পণ্যসামগ্রী নদীপথে চলে যেত।
চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র প্রকল্পের মধ্যে চাক্তাই খালের কর্ণফুলী অভিমুখের মোহনা সমূহে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজাখালীতেও স্লুইসগেট নির্মিত হচ্ছে। রাজাখালি দিয়ে নৌযান প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে চাক্তাই এলাকায় ভোগ্যপণ্যবাহী নৌযান প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না স্লুইস নির্মাণের অজুহাতে, এর ফলে চাক্তাই এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধ্বস নেমেছে। যার প্রভাব পড়ছে ভোগ্যপণ্যের বাজারেও। একদিকে মালামাল উঠা-নামার সাথে জড়িত শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, অন্যদিকে লেভার সার্জ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ, তিনগুণ। বিষয়টি স্লুইসগেট নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষের বিবেচনা করা প্রয়োজন। তা ছাড়া চাক্তাই খালে স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলেও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ অত্র এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার স্বার্থে খাল দিয়ে পণ্যবাহী নৌযান প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ¯স্লুইসগেট কতটুকু কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে তা আগামীই বলে দেবে। আমাদের জানামতে স্লুইসগেট সঠিক ভাবে পরিচালনা করা না গেলে অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণ তার সুফল যথাযথ ভাবে পাবে না। শুধু নির্মাণ করে দায় সারলে হবে না। ¯স্লুইসগেটগুলোর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সচেতন দৃষ্টি থাকাও জরুরি। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের অসাধু ব্যবসায়ীরা সময়ে অসময়ে ক্রেতাদের জিম্মি করে নানা অজুহাতে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াতে দেখা যায়, সিন্ডিকেট সমূহের বোধোদয় হওয়া জরুরি। সরকার চাইলে গুদামজাতকারীদের শায়েস্তা করার বহুপথ রয়েছে। চাক্তাই খাল দিয়ে যেসব ভোগ্যপণ্য গুদামে আসে সরকার যদি চাক্তাই খাল দিয়ে নৌযান প্রবেশ বন্ধ করে দেয় গুদামজাতকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত দিয়ে পালাতে হবে। আমরা চাইনা তাদের ব্যবসা লাটে উঠুক, তবে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এটাই আমাদের মূল বক্তব্য। যারা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সাথে জড়িত তাদের চিন্তা করা প্রয়োজন, বিকল্প ব্যবস্থা না দাড়ানো পর্যন্ত চাক্তাই খাল দিয়ে নৌযান প্রবেশ চালুরাখা। হয়তো এমন একদিন আসবে নৌযানের সাহায্যে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে আপাদত বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে চাক্তাই ব্যবসায়িক এলাকায় নৌযান মালামাল আনা-নেয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে ভোক্তা সাধারণ।