চসিক মেয়রের মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত নগরী করার শপথ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা

27

গত বৃহস্পতিবার লালদিঘি ময়দানে আয়োজিত মহাসমাবেশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি ও যৌতুকমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে হাজারো নগরবাসী শপথ নিয়েছেন। শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। শপথ বাক্য পাঠ করানোর আগে মেয়র জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন একটি সমৃদ্ধ জাতি ও উন্নত বাংলাদেশ গড়া আর বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য নতুন প্রজন্মকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি থেকে রক্ষা করতে হবে বলে তার বক্তব্যে উল্লখ করনে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যানারে আয়োজিত এ মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগম। কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল এতে সভাপতিত্ব করেন, বক্তব্য রাখেন, বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র নিছার উদ্দিন আহমেদ, জোবাইরা নার্গিস খান, চসিকের প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম বলা যায়। তবে সুদুর অতীত থেকে ওয়ার্ড বা ইউনিট পর্যায়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি ও যৌতুক বিরোধী বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে আসছে চসিক। মেয়র তার বক্তব্যেও এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বলাবাহুল্য যে, সিটি কর্পোরেশনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে একটি সেলও রয়েছে।
মহাসমাবেশটি চসিকের আয়োজনে হলেও এতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারি, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলদের নেতৃত্বে এমনকি দলীয় ব্যানারেও নগরবাসীর একটি অংশ যোগদান করেন। বলা যায়, মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন যে লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করেছেন, তা আপাতত সফল হয়েছে, তবে নগরবাসীর শপথ বা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শপথকারীরা নিজেরাই সচেতন না হলে এবং সিটি কর্পোরেশনসহ পুলিশ প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষগুলো আন্তরিক না হলে এ মহাসমাবেশ প্রকৃত অর্থে নিস্ফলই হবে। নগরবাসীর এ মহসাববেশ যেন নিস্ফল না হয়, তা তদারকি করার দায়িত্ব চসিকের। উল্লেখ্য যে, আমরা জানি, প্রধানমনত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও মাদককে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন গত বছর। তাঁর এ ঘোষণা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীল ভ’মিকা আমরা লক্ষ্য করে আসছি। যা এখনও অব্যাহত আছে। আমরা আশা করি, চসিকের এ উদ্যোগ সরকারের ঘোষণা ও গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনসচেনতা বৃদ্ধি করবে।
মেয়র কর্তৃক যে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়, তা হুবহু তুলো ধরা হলো ‘আমি মহান সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ করছি যে- নিজেকে সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা ধরে রাখতে কোনো অনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করবো না। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িত হবো না। কোনো অজুহাতে মাদকের শরণাপন্ন হবো না। কোনো অবস্থাতেই যৌতুক গ্রহণ ও প্রদান করবো না। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। সকল অপরাধবিষয়ক সংবাদ প্রথমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী দেশকে ভালোবাসবো। বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবো। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে তার যোগ্য কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী চলমান জিরো টলারেন্স নীতিকে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রত্যাশিত ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সন্ত্রাস, মাদক, যৌতুক ও দুর্নীতি প্রধান অন্তরায়। এ অন্তরায়গুলো দূর করে নিরাপদ বাসযোগ্য পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ও উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা ঐক্যবদ্ধ হলাম। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”